নানা নাটকীয়তার পর তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামের (টিভিকে) সভাপতি থালাপতি বিজয় তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার। রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু ইনডোর স্টেডিয়ামে বিজয়ের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ১১৮ অতিক্রম করতে বিজয়কে পাঁচ দিন সময় নিতে হয়েছে। এ সময় তিনি গভর্নরের সঙ্গে চার দফা বৈঠক করেন এবং সম্ভাব্য মিত্রদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা চালান। ৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া নেতা, বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় পান। এরপর জোট গঠন করে ১১৮ আসন পূর্ণ করে শনিবার গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকতার দাবি জানান।
তিনি কংগ্রেসের পাঁচজন বিধায়ক, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাছির (ভিসিকে) দুইজন আইনপ্রণেতা এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের দুইজন করে সদস্যের সমর্থন পান। তবে বিজয় দুইটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে একটি আসন ছাড়তে হবে। ফলে জোটের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ১২০ জনে।
প্রায় ছয় দশকের মধ্যে এটি তামিলনাড়ুর প্রথম সরকার, যা দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাজাগাম (ডিএমকে) বা অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাজাগামের (এআইএডিএমকে) বাইরে গঠিত হলো। এদিকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি ও দুই নেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
২০০৯ সালে বিজয় রাহুল গান্ধীর দলে যোগ দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় এখন সেই দলই বিজয়ের বৃহৎ জোট সরকারের একটি ছোট অংশীদার। নতুন জোটের নেতাদের এক বৈঠকে বিজয় বলেন, কঠিন সময়ে যখন কেউ তার ওপর বিশ্বাস রাখেনি, তখন কংগ্রেসের একটি অংশ তার প্রতি আস্থা রেখেছিল। তিনি বিশেষভাবে রাহুল গান্ধী, প্রভীন চক্রবর্তীসহ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করেন, যারা বিশ্বাস করতেন তিনি রাজ্যে জয়ী হতে পারবেন।
এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে রাজনৈতিক নেতা, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, শিল্পপতি এবং ঊর্ধ্বতন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমবেত হয়েছেন। এ সময় সামনের সারিতে বিজয়ের বাবা-মা, প্রবীণ চলচ্চিত্র নির্মাতা এস. এ. চন্দ্রশেখর এবং শোভা চন্দ্রশেখরের জন্য আসন সংরক্ষিত ছিল। অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান এবং তার মাকেও একই সারিতে আসন দেয়া হয়।