ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের কর্মসূচি, ৮ অক্টোবর খাইরাবাদে পরবর্তী ধাপের ঘোষণা
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত দাবিতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দুই দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর রাজপথে নেমেছে পিটিআই। রোববার খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াতের গান্ধী চকে লংমার্চের প্রথম ধাপ শুরু হয়। দলটির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়ে গাড়িবহর এতে যোগ দিচ্ছে।
পিটিআইয়ের কর্মসূচি অনুযায়ী, লাক্কি মারওয়াত থেকে যাত্রা করে কাফেলাটি কয়েকটি ধাপে এগোবে। ৫ অক্টোবর কারাক থেকে, ৬ অক্টোবর কোহাট ও আশপাশের এলাকা থেকে এবং ৭ অক্টোবর পেশোয়ার থেকে নতুন অংশগ্রহণকারীরা এতে যুক্ত হওয়ার কথা। ৮ অক্টোবর চارسাদ্দা ও মোহমান্দের কর্মীদের যুক্ত করে খাইরাবাদে জমায়েত হবে কাফেলা। সেখানে লংমার্চের পরবর্তী ধাপের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ আপাতত কর্মসূচির এই ধাপের গন্তব্য সরাসরি ইসলামাবাদ নয়।
লংমার্চ শুরুর আগে সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে দুই দফা আলোচনা হয়। জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ, তাঁর চিকিৎসা এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে ইমরান খানের সঙ্গে দ্রুত সাক্ষাতের সুযোগ এবং তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। দলটি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আটক ব্যক্তিদের বিষয়েও আলোচনা করেছে। আলোচনায় কিছু রাজনৈতিক বিষয়ে অগ্রগতি হলেও শেষ পর্যন্ত ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি নিয়ে মতপার্থক্য কাটেনি।
সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার ব্যর্থতার জন্য খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদিকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। তাঁর দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে প্রাদেশিক সরকারের অবস্থানের কারণে সমঝোতা হয়নি। অন্যদিকে পিটিআই আলোচনার ব্যর্থতার জন্য সরকারের অনমনীয় অবস্থানকে দায়ী করেছে।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই লংমার্চ শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি। লাক্কি মারওয়াতের গান্ধী চকে তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তাঁর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক যোগ দেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুরের নেতৃত্বেও ডেরা ইসমাইল খান থেকে একটি গাড়িবহর কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। তবে সড়ক অবরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে ওই বহরকে একপর্যায়ে ফিরে যেতে হয়েছে বলে গান্দাপুর জানিয়েছেন।
লংমার্চ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পাকিস্তান সরকার। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নিরাপত্তা যান ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় সম্ভাব্য বিক্ষোভ মোকাবিলায়ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
লংমার্চের আগে পিটিআই কর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। দলটির নেতারা সহিংসতা, ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এড়িয়ে চলার কথা বলেছেন। অন্যদিকে কর্মসূচিতে প্রাদেশিক সরকারের সম্পৃক্ততা নিয়েও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ তীব্র হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদির লংমার্চে যোগ দিতে সরকারি হেলিকপ্টার ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন। তিনি এটিকে আদালতের নির্দেশের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সরকারের অভিযোগের পাশাপাশি পিটিআইয়ের অবস্থানও রাজনৈতিক বিরোধের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।