ম্যাথিউ ব্রিটজকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও কেশব মহারাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৬৭ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে শুভসূচনা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডারবানের কিংসমিডে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৯৭ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪১.২ ওভারে ২৩০ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ। শুরুটা অবশ্য প্রত্যাশামতো হয়নি স্বাগতিকদের। মাত্র ২৯ রানেই ফিরে যান দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও টনি ডি জর্জি। ডি কক ১৮ বলে ১৪ রান করলেও ডি জর্জি ৭ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি। এরপর ইনিংসের হাল ধরেন ব্রিটজকে। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। বাভুমা ৪৮ বলে ৩০ রান করে অ্যাডাম জাম্পার বলে আউট হন। এরপর রায়ান রিকেলটন ও ডেভিড মিলারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসকে এগিয়ে নেন ব্রিটজকে।
শেষ দিকে অবশ্য ম্যাচের চিত্র বদলে দেন ব্রিটজকে ও মার্কো ইয়ানসেন। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের ১০৭ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্রিটজকে তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি। ১০৬ বলে ১১২ রানের ইনিংসে ১৪টি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। ৪৮তম ওভারে রানআউট হয়ে থামে তাঁর ইনিংস। ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান এই ব্যাটার।
অন্য প্রান্তে ঝড় তোলেন ইয়ানসেন। মাত্র ৫৯ বলে ৭৫ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও চারটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯৭ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস ৫৭ রানে তিনটি এবং জাম্পা ৫০ রানে দুটি উইকেট নেন।
২৯৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতে আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছিল। বিশেষ করে অধিনায়ক মিচেল মার্শ দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ট্রাভিস হেডকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম উইকেটে ৯০ রানের জুটি গড়েন তিনি। মাত্র ৩৬ বলে ৬০ রান করেন মার্শ। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও ছয়টি ছক্কা। তবে নবম ওভারের শেষ দিকে কেশব মহারাজের বলে আউট হয়ে তাঁর ঝড় থামে।
মার্শ ফেরার পর অস্ট্রেলিয়ার রান তোলার গতি কমে যায়। হেড করেন ৩৬, ম্যাট রেনশ ৪৪ এবং কুপার কনলি ৩৮ রান করেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ৪১.২ ওভারে ২৩০ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর মহারাজ। ৯.২ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। তাঁর সঙ্গে বাঁহাতি স্পিনার বিয়র্ন ফোর্টুইনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন—৮ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। করবিন বশও দুটি উইকেট শিকার করেন। জেরাল্ড কোয়েটজি ও মার্কো ইয়ানসেন নেন একটি করে উইকেট।
চার পেসারকে চোটের কারণে না পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ম্যাচটিতে স্পিনারদের কার্যকর ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মহারাজ ও ফোর্টুইনের ৬ উইকেটের জুটি অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারকে বড় জুটি গড়ার সুযোগ দেয়নি।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে হবে ২৭ সেপ্টেম্বর জোহানেসবার্গে। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ ৩০ সেপ্টেম্বর পচেফস্ট্রুমে।