- ফিরে এল ২০০৬ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের স্মৃতি; ওয়ানডেতে প্রথমবার একই ম্যাচে পাঁচ সেঞ্চুরি
ওয়ানডে ক্রিকেটে চারশর বেশি রান তাড়া করে জয়ের ইতিহাসে এত দিন ছিল একটিই নজির। ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রানের জবাবে ৪৩৮ রান করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার সেই তালিকায় দ্বিতীয় দল হিসেবে নাম লেখাল ভারত। অধিনায়ক শুবমান গিলের অপরাজিত ২২৩ রান ও রোহিত শর্মার সেঞ্চুরিতে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০৫ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। গুয়াহাটিতে বুধবার আট উইকেটের এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও এক ম্যাচ হাতে রেখে নিশ্চিত করেছে ভারত।
টস হেরে আগে ব্যাট করে জন ক্যাম্পবেল, অধিনায়ক শাই হোপ ও আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে সাত উইকেটে ৪০৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ৪৩.৩ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ৪০৬ রান করে ভারত। অর্থাৎ ৩৯ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দলটি। ওয়ানডেতে এটি ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় এবং ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া।
ভারতের জয়ের নায়ক গিল। মাত্র ৬২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ১১৭ বলে পৌঁছে যান দ্বিশতকে। শেষ পর্যন্ত ১৩৩ বলে ২৬টি চার ও আটটি ছক্কায় ২২৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ওয়ানডে ইতিহাসে এটিই দ্রুততম দ্বিশতক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দ্বিশতক করেছিলেন গিল। দ্বিতীয়বার এই কীর্তি গড়ে তিনি রোহিত শর্মার পর ওয়ানডেতে একাধিক দ্বিশতক করা দ্বিতীয় ব্যাটার হয়েছেন। রোহিতের নামের পাশে রয়েছে তিনটি দ্বিশতক।
রান তাড়ায় গিলের সঙ্গে ভারতের ভিত গড়ে দেন রোহিত। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ২৫৫ রান। ৭৫ বলে ১০টি চার ও ছয়টি ছক্কায় ১০১ রান করে আউট হন রোহিত। ওয়ানডেতে এটি তাঁর ৩৫তম সেঞ্চুরি। প্রথম উইকেটের এই বড় জুটিতেই ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রোহিত ফেরার পর বিরাট কোহলি বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি। ১৯ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ২৯ রান করে আউট হন তিনি। এরপর রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে সঙ্গে নিয়ে বাকি পথ পাড়ি দেন গিল। গায়কোয়াড় ৩৭ বলে দুই চারে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন।
ভারতের জন্য জয়টি আরও কয়েকটি রেকর্ডে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ওয়ানডেতে দলটি নবমবারের মতো ৪০০ বা তার বেশি রান করল। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার এমন সংগ্রহ আটবার। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে ইতিহাসে এটিই প্রথম ৪০০ রানের ইনিংস। তবে তিন ব্যাটারের সেঞ্চুরিতে গড়া সেই বিশাল সংগ্রহও ভারতের রানবন্যা থামাতে পারেনি।
ম্যাচটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক দুই দলের ব্যাটারদের পাঁচটি সেঞ্চুরি। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে একই ম্যাচে পাঁচটি শতকের ঘটনা এই প্রথম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ক্যাম্পবেল, হোপ ও জাঙ্গু শতক করেন; ভারতের হয়ে সেঞ্চুরি পান রোহিত ও গিল।
ক্যারিবীয়দের ইনিংসে ক্যাম্পবেল ৬৮ বলে ১০১ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল নয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। অধিনায়ক হোপ ৯৪ বলে ১০৪ রান করেন আটটি চার ও তিনটি ছক্কায়। ওয়ানডেতে এটি তাঁর ২০তম সেঞ্চুরি। আর জাঙ্গু ৭৭ বলে ১১৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন; তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১৩টি চার ও তিনটি ছক্কা। তিনজনের শতকে বড় সংগ্রহ পেলেও শেষ পর্যন্ত ভারতের ব্যাটিংয়ের সামনে তা যথেষ্ট হয়নি।
ভারতের আগের সর্বোচ্চ সফল ওয়ানডে রান তাড়ার রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ২০১৩ সালে জয়পুরে অস্ট্রেলিয়ার ৩৫৯ রানের জবাবে ৩৬২ রান করে জিতেছিল ভারত। সেই ম্যাচে রোহিত ও বিরাট কোহলি সেঞ্চুরি করেছিলেন। এবার ৪০৬ রান তাড়া করে সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেল দলটি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য ব্যবধান তৈরি করেছে ভারত। সিরিজের শেষ ম্যাচটি হবে ৩ অক্টোবর, নিউ চণ্ডীগড়ে। গুয়াহাটির ম্যাচে একদিকে যেমন ক্যারিবীয় ব্যাটারদের শতক ছিল, অন্যদিকে গিলের রেকর্ডময় দ্বিশতক ও রোহিতের সেঞ্চুরি ভারতের জয়কে পরিণত করেছে ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত রান তাড়ায়।