শক্তিমত্তার বিচারে প্রতিপক্ষ অনেক এগিয়ে—তবু আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। চীনের বিপক্ষে লড়াকু পারফরম্যান্সের পর এবার ‘বি’ গ্রুপে আরেক শক্তিধর প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার মনে করেন, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি নিঃসন্দেহে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত তার দল। বৃহস্পতিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া টেকনিক্যালি অত্যন্ত দক্ষ এবং প্রতিভাবান একটি দল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও তারা অনেক এগিয়ে। সেই হিসেবে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দলও বলা যায় তাদের।
বর্তমানে ফিফা নারী ফুটবল র্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ৯ নম্বরে, আর বাংলাদেশের অবস্থান ১১২। ফলে কাগজে-কলমে ম্যাচটি নিঃসন্দেহে অসম লড়াই। তবু বাটলারের বিশ্বাস, লড়াইয়ের মানসিকতা থাকলে বাংলাদেশ দল সমর্থকদের হৃদয় জয় করতে পারবে।
তিনি বলেন, “আমি বাস্তববাদী মানুষ। জানি অনেক দিক থেকেই এই ম্যাচ জেতা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের সেরাটা দেওয়া এবং নিজেদের পরিচয় ধরে রাখা। আমরা যদি সেটা করতে পারি, তাহলে আশা করি অনেক হৃদয় জয় করতে পারব।”
চীনের বিপক্ষে আগের ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও দলের পারফরম্যান্সে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক ছিল। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান কোচ বাটলার। তার মতে, খেলোয়াড়রা যদি একই ধরনের মনোভাব ও শৃঙ্খলা নিয়ে মাঠে নামতে পারে, তাহলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও ভালো লড়াই করা সম্ভব।
বাটলার বলেন, “আমি আশা করি আগের ম্যাচের মতোই চরিত্র দেখা যাবে। খেলোয়াড়রা বিনয় নিয়ে মাঠে নামবে এবং আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলবে। ফুটবল অনেক সময় মুহূর্তের খেলা—সেই মুহূর্তগুলো কাজে লাগাতে পারলে ফলাফল ভিন্নও হতে পারে।”
দলের গোলকিপার মিলির পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট কোচ। দীর্ঘদিন ধরে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা এই গোলরক্ষককে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে দেখছেন। মজা করে বাটলার বলেন, মিলির চুলের স্টাইল নাকি কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলির মতো।
তবে শুধু স্টাইল নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও মিলির ওপর আস্থা রাখছেন কোচ। তিনি বলেন, মিলির উচ্চতা ভালো, হাতও শক্তিশালী এবং তার মানসিক দৃঢ়তাও প্রশংসনীয়। তাছাড়া সে একজন সৈনিক হওয়ায় তার মধ্যে শৃঙ্খলার গুণও রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কীভাবে খেলবে বাংলাদেশ—সে বিষয়েও একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাটলার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু রক্ষণে বসে থাকবে না; বল দখলে পেলে আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলতে চায় দলটি।
“আমাদের একটি গেম প্ল্যান আছে এবং সেটা কার্যকর করার চেষ্টা করব। বল আমাদের দখলে থাকলে আমরা সৃজনশীল ও আক্রমণাত্মক হতে চাই। আর যখন বল প্রতিপক্ষের কাছে থাকবে, তখন মাঠের জায়গা কমিয়ে এনে রক্ষণকে সুসংহত রাখব,” বলেন বাটলার।
প্রতিপক্ষ নিয়ে বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতার কথা জানান তিনি। উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ম্যাচের ভিডিও খুব বেশি পাওয়া যায়নি বলে জানান বাটলার। তবে সীমিত তথ্য নিয়েই দল প্রস্তুতি নিচ্ছে।
একাদশে কিছু পরিবর্তনও আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ। খেলোয়াড়দের কাজের চাপ সামলাতে এবং পরবর্তী ম্যাচের কথা মাথায় রেখে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন করা হতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারও প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা স্বীকার করে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া শক্তিশালী দল হলেও বাংলাদেশ নিজেদের ভুল শুধরে ভালো ফুটবল খেলতে চায়।
তিনি বলেন, “গত ম্যাচে আমরা কিছু ভুল করেছি। কোচ সেগুলো দেখিয়ে দিয়েছেন। আশা করছি পরের ম্যাচে সেগুলো আর হবে না। ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো খেলব। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।”
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা দেখাতে চান না বাটলার। তার মতে, এই টুর্নামেন্ট মূলত বাংলাদেশের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য শেখার বড় একটি সুযোগ। তাই ফলাফলের চেয়ে উন্নতির ধারাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হলেও লড়াই ছাড়া মাঠ ছাড়তে রাজি নয় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। শুক্রবারের ম্যাচে সেই লড়াকু মানসিকতারই প্রমাণ দিতে চায় মিলি-আফঈদাদের দল।