উইমেন্স এশিয়ান কাপে চীনের বিপক্ষে লড়াই করে হারলো বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

পিটার বাটলারের দল এখন প্রশংসা পেতেই পারে। নয়বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ফল কী হবে—এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। তবে আশার কথা, চীনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে সাধ্যমতো চোখে চোখ রেখে নারী এশিয়ান কাপে লড়াই করেই ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে হজম করা দুই গোলেই হার মানতে হয়েছে লাল-সবুজদের। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৬ মার্চ, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে পার্থক্য যতই থাকুক, শুরুতে চীনকে গোল করতে দেয়নি বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির কমব্যাঙ্ক স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। বাংলাদেশ শুরুতে পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে সতর্ক কৌশলে খেলেছে—প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করে সুযোগ বুঝে পাল্টা আক্রমণে গেছে। সেই প্রতি-আক্রমণেই কয়েকবার ভয় ধরিয়েছে।

সমর্থকরা মুগ্ধ, খুশি কোচ, সন্তুষ্ট বাফুফে সভাপতি

চতুর্থ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে লিউ জিংয়ের শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। ১২ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ওয়াং সুয়াংয়ের শট ফিস্ট করে ফেরান রুপনার জায়গায় শুরুর একাদশে নামা গোলকিপার মিলি আক্তার। ফিরতি বলে চীনের আরেক খেলোয়াড়ের পাস থেকে ওয়াংয়ের হেড পোস্টের বাইরে লেগে বেরিয়ে যায়।

দুই মিনিট পরই চোখধাঁধানো এক গোলের উচ্ছ্বাসে ভাসতে পারত বাংলাদেশ। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে ঋতুপর্ণার জোরালো শট লাফিয়ে ফিস্ট করে কোনোমতে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বের করে দেন চীনের গোলরক্ষক চেন চেন।

১৯ মিনিটে ওয়াংয়ের শট আটকাতে গিয়ে কিছুটা তালগোল পাকিয়ে ফেলেছিলেন মিলি। তবে পোস্টের দিকে গড়াতে থাকা বল ছুটে এসে ক্লিয়ার করেন শিউলি আজিম। পরক্ষণেই উরিগুমুলার শট তড়িৎ পায়ে ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন মিলি।

কিছুটা অস্বস্তি অনুভব করায় মাঠে শুয়ে চিকিৎসা নেন মিলি, পরে আবার খেলায় ফেরেন। ২৪ মিনিটে উরিগুমুলার ক্রসে ওয়াং হেডে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

বিশ্বকাপ খেলা চীনের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ ঋতুপর্ণা, অভিষেকে বর্ণিল মিলি

শেষ দিকে এসে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের প্রতিরোধ। ৪৪ মিনিটে ওয়াং সুয়াং বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে ডান দিক দিয়ে জাল কাঁপান। যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে মিলি প্রথম শট রুখে দিলেও ফিরতি বলে ঝ্যাং রুইয়ের জোরালো শট এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে জড়িয়ে যায় জালে।

বিরতির পর বাংলাদেশ আগের চেয়ে আরও জমাট ফুটবল খেলতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে চীনকে আর কোনও গোল করতে দেয়নি—এটাই দলের বড় সাফল্য। একাদশে কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়। তহুরা খাতুন ও হালিমা আক্তার মাঠে নামেন, উমহেলা ও শিউলি বেঞ্চে যান। পরে নবীরনের জায়গায় নামেন স্বপ্না। চীনের আধিপত্য কিছুটা কমে এলেও গোলের পরিষ্কার সুযোগ খুব বেশি তৈরি হয়নি। বাংলাদেশ বল পায়ে রাখার চেষ্টা করেছে, সুযোগ বুঝে আক্রমণেও গেছে। ফলে বল দখল ও গোলমুখে শটের সংখ্যাও বেড়েছে।

৫৮ মিনিটে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ আসে। আফঈদার লং বল থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়রের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬৮ মিনিটে বাংলাদেশ বেঁচে যায়। ঝ্যাং চেংসুর জোরালো শট মিলি হাত উঁচিয়ে কোনোমতে প্রতিহত করেন। ৭৭ মিনিটে স্বপ্না রানীর শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৮০ মিনিটে চীনের সরাসরি কর্নার থেকে নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। ৮৬ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের জায়গায় নেমে অভিষেক হয় সুইডেনপ্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর।

শেষ পর্যন্ত রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই যেন স্বস্তি নেমে আসে। দুই গোলে হারলেও চীনের মতো দলের বিপক্ষে লড়াই করেছে লাল-সবুজরা। এর আগে গ্রুপের অন্য ম্যাচে উত্তর কোরিয়া ৩-০ গোলে হারিয়েছে উজবেকিস্তানকে।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত