২৭তম বিসিএস: আরও ৯৬ প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এ বিসিএসের বিসিএসের ৬৭৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল

দেড় যুগ পর সাতাশতম বিসিএসের আরও ৯৬ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় বুধবার।

২৭তম বিসিএস পরীক্ষা-২০০৫-এর মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ৫ নভেম্বরের চিঠির সুপারিশক্রমে ৯৬ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এ বিসিএসের বিসিএসের ৬৭৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।

লিংকে ক্লিক করে দেখুন পূর্ণ তালিকা ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন

গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি সাতাশতম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় ফল বাতিল হওয়ায় বাদ পড়া ১ হাজার ১৩৭ জনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে ২৭তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সেই মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে।

ওই বছরের জুলাই মাসে দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় সেই মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। তাতে উত্তীর্ণ ৩ হাজার ২২৯ জনকে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা রিট আবেদন করেন। কিন্তু ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাই কোর্ট প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত বৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়।

সেই রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারীদের ২৫ জন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।

অন্যদিকে ২০৫ জন আবেদনকারীর আরেক রিট আবেদনে হাই কোর্টের আরেকটি বেঞ্চ ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অবৈধ ঘোষণা করে। এর বিরুদ্ধে সরকার তিনটি লিভ টু আপিল করে।

২০১০ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারকের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষা বাতিল বৈধ ঘোষণার হাই কোর্টের রায় বহাল রাখে।

একইসঙ্গে দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা লিভ টু আপিল কিছু পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দেয়।

ওই রায়ের পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে ১ হাজার ১৩৭ জনের পক্ষে ১৪০ জন আলাদা আবেদন করেন ২০২৪ সালে। শুনানি নিয়ে ৭ নভেম্বর আপিল বিভাগ তাদের আপিল করার অনুমতি দেয়।

এর ধারাবাহিকতায় তিনটি আপিলের ওপর শুনানি হয় সর্বোচ্চ আদালতে, যার রায় আসে ২০ ফেব্রুয়ারি।

৯৬ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে শর্তে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। তাদের ২ বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এ শিক্ষানবিশকাল অনূর্ধ্ব ২ বছর বৃদ্ধি করতে পারবে।

শিক্ষানবিশকালে যদি তিনি চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হন, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে। প্রশিক্ষণ শেষে বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে অতিক্রান্ত হলে তাদের চাকরিতে স্থায়ী করা হবে।

শর্ত হিসাবে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে তাদের ব্যাচের নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রথম যে তারিখে নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, সেই তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষিকভাবে নিয়োগ আদেশ কার্যকর হবে। তাদের ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের যোগদানের তারিখ থেকে তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা বজায় থাকবে। তবে এর ফলে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না। 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত