এই এনসিপির অংশ আমি হচ্ছি না: মাহফুজ

আজাদ প্রতিবেদন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, তিনি ‘এই এনসিপির’ অংশ হচ্ছেন না। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট বাঁধার ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টা পর রোববার রাতে ফেইসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, "বিদ্যমান বাস্তবতায় আমার জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান, স্নেহ এবং বন্ধুত্ব মুছে যাবে না। কিন্তু, আমি এই এনসিপির অংশ হচ্ছি না। আমাকে জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়নি, এটা সত্য নয়। কিন্তু ঢাকার কোনো একটা আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়ার চেয়ে আমার লং স্টান্ডিং পজিশন ধরে রাখা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।”

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা পর থেকেই শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছে এনসিপি। ইতোমধ্যে তারা শতাধিক আসনে প্রার্থীও ঘোষণা করেছে।

এছাড়া গেল ৭ ডিসেম্বর এনসিপির নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে তিন দলের ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’। এ জোটের বাকি দুই দল হলো এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।


সেই জোট গঠনের তিন সপ্তাহ না যেতেই সম্প্রতি জামায়াতের সঙ্গে দলটির আসন নিয়ে দর কষাকষির খবর আসে সংবাদমাধ্যমে।

সেই খবরের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে রোববার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকে জামায়াতে ইসলামীসহ যুগপৎ আন্দোলনে থাকা আট দল।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, “আমাদের আট দলের সঙ্গে দুটি দল যুক্ত হয়েছে— এনসিপি ও এলডিপি।

“এলডিপির অলি আহমেদ উপস্থিত আছেন, আর এনসিপির নাহিদ ইসলাম এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে মিটিং করেছেন; আমাদের জোটে যুক্ত হয়েছেন। রাতের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে তারা বিস্তারিত তুলে ধরবেন।"

জামায়াত আমিরের এই ঘোষণার ঘণ্টা তিনেক পরেই বাংলা মোটরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন নাহিদ।

তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ‘সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ’ করার জন্য ‘বৃহত্তর ঐক্যের’ প্রয়োজনবোধ থেকে তারা জামায়াত ও সমমনা আট দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। এর ভিত্তিতে তারা ‘নির্বাচনি সমঝোতায়’ একমত হয়েছেন।

এনসিপির এই সংবাদ সম্মেলনের পরেই রাত সোয়া ৮টার দিকে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ফেইসবুকে পোস্ট দেন জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মাহফুজ আলম।

তফসিল ঘোষণার একদিন আগে তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন মাহফুজ আলম। সেদিন অপর ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও পদত্যাগ করেন।

তখন তারা দুজন এনসিপিতেই যোগ দিচ্ছেন নাকি স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আসিফ স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেও মাহফুজ চুপচাপই ছিলেন।

এর মধ্যে রোববার রাতে ‘আমার রাজনৈতিক অবস্থান' শিরোনামে তিনি ফেইসবুকে লেখেন, "নাগরিক কমিটি ও এনসিপি জুলাইয়ের সম্মুখসারির নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল। এ দুটি সংগঠনে আমার জুলাই সহযোদ্ধারা থাকায় গত দেড় বছর আমি চাহিবামাত্র তাদেরকে পরামর্শ, নির্দেশনা ও পলিসিগত জায়গায় সহযোগিতা করেছি।

"আমার অবস্থান স্পষ্ট। নূতন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াই, সামাজিক ফ্যাসিবাদ মোকাবেলা, রিকন্সিলিয়েশন, দায়-দরদের সমাজ সহ- অনেক কথাই আমি বলেছি। যেগুলো আমার জুলাই সহযোদ্ধারা উক্ত দুটি সংগঠন থেকে বারবার বলেছেন। কিন্তু, তারা এগুলো ধারণ করতেন? এনসিপিকে একটা বিগ জুলাই আম্ব্রেলা আকারে স্বতন্ত্র উপায়ে দাঁড় করানোর জন্য আমি সকল চেষ্টাই করেছি। কিন্তু, অনেক কারণেই সেটা সম্ভব হয়নি।"

মাহফুজ বলেন, "ইতিহাসের এ চলতি পর্বে বাংলাদেশ একটা শীতল যুদ্ধে আছে। এ পর্বে কোন পক্ষ না নিয়ে নিজেদের বক্তব্য ও নীতিতে অটল থাকাই শ্রেয়। বিকল্প তরুণ/জুলাই শক্তির সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বরং, আমি গত দেড় বছরে যা বলেছি, যে নীতিতে বিশ্বাস রেখেছি, তা অব্যাহত রাখব। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সকল উপায়ে। ইফ ইউ কেয়ার টু জয়েন মি, ইউ আর মোস্ট ওয়েলকাম।

"নূতন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত সম্ভব ও বাস্তব। বিকল্প ও মধ্যপন্থী তরুণ/ জুলাই শক্তির উত্থান অত্যাসন্ন।"

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোটে যাওয়া না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসার আগেই এনসিপি ছাড়েন দুই নেতা। তারা হলেন, দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন।

এর মধ্যে তাসনিম জারা ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। আর ভোট থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তাজনূভা জাবীন।

আগের দিন শনিবার জামায়াতের জোটে যাওয়ার বিরোধিতা করে আহ্বায়ক নাহিদকে চিঠি লেখেন দলটির কেন্দ্রীয় ৩০ নেতা।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে জায়গা পান।

এর মধ্যে মাহফুজ আলম প্রথমে উপদেষ্টা পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পান।

পরে গত ফেব্রুয়ারিতে নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক হলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত