চট্টগ্রামে বর্ষবরণ: এবারও ডিসি হিলের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজন

চট্টগ্রাম ব্যুরো
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখ উদযাপন এবারও ডিসি হিলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নানা পরিস্থিতির কারণে এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে নতুন ভেন্যু নির্ধারণ করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে দিনব্যাপী এই আয়োজন।

পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী টিটো জানান, ১৯৭৮ সাল থেকে ডিসি হিলে বর্ষবরণ আয়োজনের একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ধারা গড়ে উঠেছিল। প্রতি বছর জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সেখানে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতো। তবে গত বছর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় সেই ধারাবাহিকতায় বিঘ্ন ঘটে। মঞ্চ ভাঙচুরের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়।

তিনি বলেন, “এ বছরও আমরা ডিসি হিলে আয়োজনের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সভাও করেছি। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেখানে তারা নিজেরাই পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।” ফলে আয়োজকদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়ে।

সমন্বয়ক সুচরিত দাশ খোকন বলেন, “চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই আয়োজন সবসময়ই গণমানুষের অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ হয়েছে। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমরা আয়োজন বন্ধ রাখিনি। বরং নতুন পরিবেশে নতুন উদ্যমে বর্ষবরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি বাঙালির সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতীক। তাই এমন একটি ঐতিহাসিক ও আবেগঘন স্থানে বর্ষবরণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভিন্ন মাত্রা যোগ হবে এবারের অনুষ্ঠানে।

প্রস্তুতি সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা জানান, নতুন ভেন্যুতে আয়োজনকে সফল করতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যানুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বরাবরের মতোই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই উৎসবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিসি হিলে আয়োজন না করার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে একটি সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর পহেলা বৈশাখের আগের রাতে ডিসি হিলে হামলার ঘটনা চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে। যদিও আগে থেকেই অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি ছিল, তবুও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়নি।

এদিকে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নতুন নকশায় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর জাতীয় দিবসের বাইরেও এবারই প্রথম বড় পরিসরে কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন হতে যাচ্ছে। আয়োজকরা আশা করছেন, স্থান পরিবর্তন হলেও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের বর্ষবরণ উৎসব আগের মতোই প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত