রাজধানীর পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করতে সরকার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় থাকা পার্ক ও খেলার মাঠ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ডিএনসিসির আওতায় বর্তমানে মোট ১৮৯টি পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি ডিএনসিসির নিজস্ব মালিকানাধীন, যার মধ্যে রয়েছে ২৪টি পার্ক, ৬টি খেলার মাঠ, ৪টি শিশু পার্ক এবং ৪টি ঈদগাহ। এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০টি পার্ক ও ৪টি খেলার মাঠসহ মোট ২৮টি স্থাপনার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাজউক ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন অবশিষ্ট ১৫১টি পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানও পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় সংস্থাটির নিজস্ব ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন মোট ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফুটপাত ও খেলার মাঠ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএসসিসি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বর্তমানে মালিটোলা পার্ক, শহীদ মতিউর রহমান পার্ক (গুলিস্তান), ওসমানী উদ্যান, নবাবগঞ্জ পার্ক ও বাসাবো খেলার মাঠসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বর্তমানে খেলার মাঠের সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে ৮টি জোনে ৮টি এবং ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ, বরিশালসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকাতেও পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে খেলাধুলার পরিবেশের উন্নয়ন হয়েছে। শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত খোলা মাঠ ও পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।
শু?আজা