দৌলতদিয়ায় বাস দুর্ঘটনার পর ঝড়-বৃষ্টি, উদ্ধারকাজ ও ফেরি ব্যাহত

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে বাস তলিয়ে যাওয়ার পর পরই ব্যাপক ঝড় আর বৃষ্টি শুরু হয়। এর ফলে সেখানে উদ্ধারকাজ ও ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে আরিচা ও দৌলতদিয়া দুই ঘাটেই যানবাহনের ব্যাপক চাপ পড়েছে। এ দুর্ঘটনায় এরই মধ্যে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই দুই নারীর লাশ রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-ঠিকানা জানাতে পারেননি সিভিল সার্জন।

কুস্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।

বুধবার রাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদরদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর আনুমানিক ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়।

গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা স্টেশনের একটি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরো দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।

উদ্ধার তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি প্রাণবন্ধু চন্দ্র বিশ্বাস রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। পদ্মা নদী কিছুটা উত্তাল। বাসটি নদীর অনেক গভীরে। ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল, উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ সবই আছে। তবে কাজ চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে, `এখানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ, ডিসি, এসপি, প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে। মানুষ কিছুটা উত্তেজিত। কারণ, মানুষজন এখনও তাদের স্বজনদের ব্যাপারে কোনো হদিশ পাচ্ছে না।'

বিকালে মেহেরপুর থেকে জে আর পরিবহনে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন প্রত্যাশা নামের এক নারী। তিনি দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছান রাত পৌনে ৮টার দিকে। এক ঘণ্টা ধরে তিনি ঘাটে বসে আছেন। প্রত্যাশা বলছিলেন, ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। ফেরি ঘাট থেকে আমরা বেশ কিছুটা দূরে। আমাদের গাড়ির পেছনেও লাইন আছে। যাত্রী যারা বাইরে গিয়েছিলেন, তারা এসে বলেছেন, ফেরি নাকি চলছে না। সে কারণে অপেক্ষায় আছি।'

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা ঘাটের ডিজিএম আব্দুস সালাম রাত পৌনে ৯টার দিকে বলেন, `ঝড়-বৃষ্টির কারণে ফেরি চলাচল কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল। এখন আবার শুরু হয়েছে।'

বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- বাসটি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় পন্টুনে ছিল। ফেরিটি পন্টুনে যুক্ত ছিল। ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন ছিল। চলন্ত বাসটি মুহূর্তের মধ্যে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি পড়ার মুহূর্তে পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন সেদিকে দৌড়ে যান। বাসটি ডুবে যাওয়ার পর সেখান থেকে কয়েকজন ভেসে ওঠেন। তখন পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন তাদের দিকে রশি ও লাইফবয় ফেলেন। তারা সেটি দিয়ে ধরে ওঠে আসেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত