চতুর্থ মেয়াদেও পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রাক-নির্বাচনী জরিপে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। জরিপে বলা হয়, রাজ্যটির ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১৮৪ থেকে ১৯৪টি আসন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি পেতে পারে ৯৮ থেকে ১০৮টি আসন। ২০২১ সালের সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২১৫ এবং বিজেপি পেয়েছিল ৭৭ আসন। সর্বভারতীয় গণমাধ্যম ‘সিএনএন-নিউজ ১৮’ প্রকাশিত ভোট-ভাইব নামে একটি সংস্থা জরিপটি করেছে।
জরিপ অনুযায়ী সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে শূন্য আসন পাওয়া কংগ্রেস, বামফ্রন্টসহ অন্যান্য দল এবার নিজেদের ভোট শেয়ার বাড়াবে। তারা পেতে পারে এক থেকে তিনটি আসন।
বলা হয়, ২০২১ সালের নির্বাচনী সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে এ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি ৯৮ থেকে ১০৮টি আসন পেতে পারে। যদিও মমতা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা থেকে তারা অনেকটাই পিছিয়ে থাকবে।
জরিপ অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস শতকরা ৪১.৯ শতাংশ ভোট পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে বিজেপি ৩৪.৯ শতাংশ ভোট পেতে পারে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রবণতার প্রতিফলন ঘটবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রবণতা অনুযায়ী, মুসলিমদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি এখনও ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। জরিপ বলছে, ৫৭.৬ শতাংশ মুসলিমের প্রথম পছন্দ ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল। আবার তপশিলি উপজাতিদের মধ্যে বিজেপির প্রতি জোরালো সমর্থন রয়েছে, যার হার ৫১ শতাংশ। মতুয়া সম্প্রদায়, তপশিলি জাতি ও দলিত ভোটারদের ৪৩ শতাংশ ভোটার বিজেপিকে এবং ৩৯.৫ শতাংশ ভোটার তৃণমূলকে সমর্থন করছে। বাম এবং কংগ্রেস সম্মিলিতভাবে মাত্র ৭.৭ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতার পাল্লাই ভারী। রাজ্যটির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পছন্দের তালিকায় ৪৮.৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। তাঁর পরেই আছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী, যাঁর সমর্থন ৩৩.৪ শতাংশ। সিপিআইএম নেতা মোহাম্মদ সেলিম ৪.৩ শতাংশ এবং কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী ৩.৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছেন।