নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা : হাতিয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনায় মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন আব্দুল হান্নান মাসউদ-এর সমর্থক ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পরাজয়ের পর তার সমর্থকদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। তবে অপর পক্ষের দাবি, নির্বাচনের আগে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার জেরে এসব উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।


নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সানা উল্লাহ জানান, জুমার নামাজের আগে এনসিপির লোকজন তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। আমার আব্বা বিএনপি করেন, আর আমি হাতপাখা করি, এই কারণে আমাদের টার্গেট করা হয়েছে অভিযোগ তার।

বুড়িরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. তানভীর জানান, চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে আব্দুল হান্নান মাসউদ একটি ভিডিও বার্তায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি অতীতের ঘটনা ভুলে যাওয়ার কথাও বলেছেন। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।চেয়ারম্যানঘাট এলাকার দোকানদার মো. আকবর অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হান্নান সমর্থক এক ব্যক্তি জানান, নির্বাচনের আগে শাপলা কলি প্রতীকের সমর্থকদের ভোট দিতে বাধা দেয়া হয়েছিল এবং বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে, দাবি তার।

এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম জানান, আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়েছি। শুধু ধানের শীষে ভোট করায় তাদের মারধর করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাচ্ছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আব্দুল হান্নান মাসউদ জানান, মানুষকে জিম্মি করার দিন শেষ। মানুষ এখন তার অধিকার আদায়ে সোচ্চার। আমাদের সকল নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান, ধৈর্য ধারণ করুন এবং কোনো উস্কানিতে পা দেবেন না। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ প্রদর্শিত হবে না, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও জানান, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুপুরের পর থেকে তাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের জনসমাগম (পাবলিক গ্যাদারিং) বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বঘোষিত 'জনতার সঙ্গে নবযাত্রা ও শুভেচ্ছা বিনিময়' কর্মসূচিও স্থগিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো হাতিয়ায় কাজ করছে। কোথাও ঝামেলা হচ্ছে খবর পেলে সেখানে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত