মালয়েশিয়ার তিনটি অবৈধ বসতিতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি তরুণীসহ ২১৪ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেটিয়া আলম এলাকায় পাহাড়ঘেরা একটি পাম তেল বাগানের ভেতরে গড়ে ওঠা বসতিতে অভিযান চালানো হয়। দেশটির অভিবাসীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে মধ্যরাতে পরিচালিত ‘অপ বেরসেপাডু মেগা’ অভিযানে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা অংশ নেয়। অভিযানে অংশ নেয়া কর্মকর্তাদের প্রায় ৪০০ মিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হয়, যেখানে অন্ধকার পরিবেশের পাশাপাশি বিষধর প্রাণীর ঝুঁকিও ছিল।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী রয়েছেন-যাদের অনেকেই তরুণী। আটকদের বয়স এক মাস থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত হলেও তরুণীদের একটি বড় অংশ স্থানীয় এলাকায় দিনমজুর ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছেন।
অভিযানে দেখা যায়, দুর্গম এলাকায় গড়ে ওঠা এই বসতিগুলো ছিল অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। সেখানে উপাসনালয় (সুরাউ), মুদি দোকান, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা ছিল। এমনকি সরকার-ভর্তুকিযুক্ত গ্যাস সিলিন্ডার ও ডিজেল ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
এছাড়া এলাকায় মোরগ লড়াইয়ের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বসতিগুলোর চারপাশে পালানোর জন্য একাধিক গোপন পথও তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
সেলাঙ্গরের ইমিগ্রেশন পরিচালক খাইরুল আমিনুস কামারুদ্দিন জানান, এসব বসতি প্রায় ৫ থেকে ৯ বছর ধরে গড়ে উঠেছিল। অভিযানে মোট ৩৫৬ জন বিদেশিকে যাচাই করা হয়, যার মধ্যে ২১৪ জনকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১২০ জন পুরুষ, ৬৫ জন নারী এবং ২৯ জন শিশু রয়েছে। ‘বাংলাদেশি তরুণীদের একটি অংশ স্থানীয়ভাবে শ্রম ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত ছিল,’-এমন তথ্যও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, এই বসতিগুলোর জন্য একজন বা একাধিক ‘তদারককারী’ ছিল, যারা নিয়মিত বাসিন্দাদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করত।
অভিযানে শাহ আলম সিটি কাউন্সিল, জেনারেল অপারেশনস ফোর্স, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও সিভিল ডিফেন্স ফোর্সসহ বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে অংশ নেয়। আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন হেফাজতে নেয়া হয়েছে।