মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তির জন্য শুনানির অপেক্ষায় ৬১৫ আবেদন

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
ছবি জাতীয় সংসদ ছবি:
ছবি জাতীয় সংসদ ছবি:

২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬৫ জনের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করেছে জামুকা

মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তির ৬১৫টি আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে; বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে ২২২টি আবেদন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬৫ জনের মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের সুপারিশ করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।

বৈঠকের বরাতে মঙ্গলবার সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একই সময়ে জামুকা ১৮ হাজার ৪১৭ জনকে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ৭৬৮ জন শহীদ, ১৯৮ জন যুদ্ধাহত, ৫২৯ জন বীরাঙ্গনা এবং ১৬ হাজার ৯২২ জন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা।

বৈঠকে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত উপকমিটির যাচাই-বাছাইয়ে সুপারিশ পাওয়া ১০৪ জন মুক্তিযোদ্ধার নামও গেজেটভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে করা ২০২টি আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

কমিটির সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ফজলুর রহমান, আবদুল হান্নান, আমীর এজাজ খান ও রোকেয়া বেগম অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে আমন্ত্রণ পাননি গাজী নজরুল
এই কমিটির সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে মঙ্গলবারের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইটে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্যদের তালিকায় এখনও তার নাম রয়েছে। কমিটির সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, গাজী নজরুল ইসলাম এখন আর তাদের দলে নেই। দলটি চায় না তিনি সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকুন। এ কারণে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে তাকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। পরদিন বিষয়টি চিঠি দিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে জানায় দলটি।

টিসিবির ভর্তুকি, ডিলার নিয়োগ নিয়ে আলোচনা
একই দিন জাতীয় সংসদ ভবনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় হয়। সংস্থাগুলোর কার্যক্রমও কমিটির সামনে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিযোগিতা কমিশন প্রতিষ্ঠার পর গত ১০ বছরে এর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয়, আদায় করা জরিমানার পরিমাণ এবং নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলার বিস্তারিত তথ্য আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ক্ষেত্রে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনা, ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং এ-সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়েও আলোচনা হয়।

কমিটির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুবের সভাপতিত্বে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বরকত উল্লাহ বুলু, আবুল হোসেন খান, আবুল কালাম, হেলেন জেরিন খান, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, গাজী এনামুল হক ও আব্দুল মুনতাকিম অংশগ্রহণ করেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত