২০২৪ সালে প্রথম সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও সেই শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বাংলাদেশকে দমাতে পারেনি কেউ। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রোনান- মাহিন- মিঠুরা। দেশকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ছাদখোলা বাসে করে হাতিরঝিলে সংবর্ধনাও পেয়েছে পুরো দল। সাফ জেতা যুবাদের নিয়ে বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও অন্যতম সহ সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর স্বপ্নটা আরও বড়। রাতেই বিজয়ী খেলোয়াড়দের হাতে এক লাখ টাকা বোনাস তুলে দিয়েছেন। অন্যরা পেয়েছেন ৫০ হাজার করে।
সাফের শিরোপা জেতার পর সমর্থকদের মাঝেও উচ্ছ্বাস চলছে। যার রেশ অটুট এখনও। তাদের ঘিরে বড় স্বপ্নের কথা শোনালেন, বাফুফে সহ সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। তার আগে ট্রফি জয়ের রহস্যের কথা জানালেন এই কর্মকর্তা, ‘এই দলটি দেখভাল করতে গিয়ে আমি সাদা চোখে যা বুঝি টিম স্পিরিট ও আত্মবিশ্বাসের জোরে সাফল্য এসেছে। আমাদের খেলোয়াড়দের প্রতিভা নিয়ে সংশয় ছিল না। তাদেরকে এক সুতোয় গেঁথে এগিয়ে নেওয়াটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।’
এরপরই সাফল্যের রহস্য উন্মোচন করেন এভাবে, ‘আমাদের দলে প্রবাসীরা খেলেছে। তারা কিন্তু যশোরে শামসুল হুদা একাডেমিতে অন্যদের সঙ্গে অনুশীলনে থাকতে পারেনি, ঢাকার অনুশীলনে দিনকয়েক ছিল। তাতে সবার মধ্যে সমন্বয় কতটুকু হয়েছে এ নিয়ে কিছুটা চিন্তা ছিল। আশার কথা, মালদ্বীপে প্রথম ম্যাচ থেকেই প্রবাসী ও স্থানীয় সবাই মিলে একটি দল হয়ে খেলতে পেরেছে। এটাই সাফল্যের আসল কারণ। এছাড়া আমরা ওদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। জাতীয় দল যেমন সুবিধা পায়- যেমন পাঁচ তারকা হোটেলে রাখা থেকে সবকিছু। কোনও কিছুতে সেভাবে কমতি রাখিনি, যেন ওদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।’
এ সময় যুবাদের নিয়ে নতুন স্বপ্নের কথা শুনিয়েছেন ঝিনাইদহ থেকে আসা এই ক্রীড়া সংগঠক, ‘আমাদের ছেলেরা দক্ষিণ এশিয়াতে সেরা হয়েছে। কোনও ম্যাচ হারেনি, তারা তাদের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। ফাইনালসহ সবগুলো ম্যাচে কেমন খেলেছে তা অনেকেই দেখেছে। এখন তাদের নিয়ে আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারি। সামনে এএফসির আসর রয়েছে। সেখানে ভালো করার জন্য এখন থেকে পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। যেন ধারাবাহিক সাফল্য আসে। আসলে রোনান-মাহিনদের নিয়ে আমাদের স্বপ্নটা আরও বড়।’
তবে বয়সভিত্তিক আসর ছাড়িয়ে মূল জাতীয় দলে খেলোয়াড় জোগানটা ভালোভাবে করতে চান তিনি, ‘আমরা চাই আমাদের জাতীয় দলে কোয়ালিটি খেলোয়াড় জোগান দিতে। পাইপলাইন ঠিকঠাক তৈরি করতে চাই। এরই মধ্যে দেখেছেন অনূর্ধ্ব-২০ থেকে মূল জাতীয় দলে খেলার মতো খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ আছে। অনূর্ধ্ব ১৫, ১৭ ও ২০ দল ঠিকঠাক সারাবছর অনুশীলনের পাশাপাশি খেলার মধ্যে থাকলে আশা করছি জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড়ের অভাব হবে না। আমরা আগেই কাজ শুরু করেছি। এখন সাফল্য আসছে।’
অনূর্ধ্ব-২০ দলের ইংলিশ কোচ কক্স সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নের কথা শুনিয়েছেন। তার প্রেক্ষাপটে নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেছেন, ‘দেখুন বিশ্বকাপে কে-না খেলতে চায়। স্বপ্ন তো অনেক কিছু দেখা যায়। তবে এটা অনেক দূরের পথ। আমরা শক্তিশালী জাতীয় দলের জন্য পাইপ লাইন তৈরির কাজ করছি। একসময় হয়তো আমরা শীর্ষ স্তরে পৌঁছাতে পারবো।’
বয়সভিত্তিক দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি কোচ নিতে চাইছেন বাফুফের সহ সভাপতি, ‘কক্সের সঙ্গে এক মাসের চুক্তি ছিল। আমরা এখন আরও ভালো মানের বিদেশি কোচ খুঁজছি। কোচিং স্টাফও থাকবে- যেন সবগুলো দল দেখভাল করা যায়। সারা বছর বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়রা অনুশীলনে থাকে, খেলার মধ্যে থাকে। এছাড়া খেলোয়াড়েরা যেন নির্ভার হয়ে খেলতে পারে সেটাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। চিকিৎসা থেকে অন্য সব সুবিধাও দেখা হচ্ছে।’
বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের অনুশীলন শামসুল হুদা একাডেমিতে হয়ে থাকে। সারাদেশে ছোটখাট অন্য একাডেমির উন্নয়নে বাফুফের মনোযোগ নিয়ে নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বললেন, ‘দেখুন শামসুল হুদা একাডেমিতে আধুনিক সব সুবিধাই আছে। ভবন জিম মাঠ সহ সবকিছুই। তাই ছেলেদের আবাসিক অনুশীলনের জন্য সেখানে নেওয়া হয়। বাফুফের নিজস্ব একাডেমি যদি বলেন সেটা এই মুহূর্তে নেই। কক্সবাজারের সেন্টার ফর এক্সিলেন্সের কাজ শুরু হবে জমির কাজটা শেষ হলেই। ফিফার অর্থায়নে সেখানে একাডেমির জন্য সবকিছুই থাকবে। তখন বয়সভিত্তিক দল সহ বিশ্বের অন্য একাডেমি যেভাবে চলে আমরা সেভাবে কাজ করতে পারবো। আর দেশের আনাচে কানাচে থাকা একাডেমি নিয়ে আমরা কাজ করছি। সবকিছুই আমাদের দৃষ্টিতে আছে। সামনে আরও কিছু দেখতে পাবেন।’
সবশেষে দেশের ফুটবলে ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর পরিষ্কার উত্তর, ‘সিন্ডিকেট কী জিনিস তা আমি বুঝি না। বুঝতেও চাই না। একটাই বুঝি মালদ্বীপে সবাই মিলে ভালো খেলেছে। নিজেদের সেরাটা দিয়েছে বলেই শিরোপা এসেছে। এখানে অন্য কিছু থাকলে হয়তো ট্রফি নিয়ে আনন্দ করা কঠিন ছিল। এখন আমাদের আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পালা।’