ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। আগামী ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগেই সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে তৎপর হয়েছে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য দল।
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে মোট ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। এবারের নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়ী হওয়ায় দলটি সংরক্ষিত ৫০টির মধ্যে ৩৫টি আসন পেতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবে ১১টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি পাবে ১টি আসন। বাকি তিনটি আসন স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টিত হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী নির্ধারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের মহিলা বিভাগের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছে। মহিলা বিভাগের সুপারিশকৃত তালিকা নিয়ে আলোচনা শেষে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
মহিলা বিভাগের প্রস্তাবিত তালিকায় যাঁদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন- কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সাবিকুন্নাহার মুন্নী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যা ও সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. আমিনা বেগম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি ডা. ফেরদৌস আরা খানম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তরুণ ও দক্ষ বক্তাদেরও তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি বিগত সরকারের সময় বিতর্কিত বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্য থেকেও কয়েকজনের নাম বিবেচনায় আসতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, “আমরা পরামর্শ হিসেবে একটি তালিকা দিয়েছি। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন জোর আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বে কোন কোন মুখ দেখা যাবে।