সংরক্ষিত নারী আসন: তাবাসসুমের পর মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্রও বাতিল

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

গতকাল বুধবার জামায়াত জোট মনোনীত ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

শুনানিতে জানা যায়, মনিরা শারমিন পূর্বে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন এবং বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা অব্যাহতির পর তিন বছর অতিক্রান্ত না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জিত হয় না। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার প্রার্থিতা যাচাই করা হয়েছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ১২(১)(চ) ধারা অনুযায়ী তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইনানুযায়ী, কোনো সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর নেওয়ার পর ৩ বছর পার না হওয়া পর্যন্ত কেউ সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন।

তথ্য বলছে, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে যোগ দিয়েছিলেন এবং মাত্র চার মাস আগে অর্থাৎ গত ডিসেম্বরে চাকরি ছেড়েছেন। এই আইনি জটিলতার কারণে তার মনোনয়নপত্র বর্তমানে ঝুলে আছে। তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল কমিশন।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময়সীমা বজায় রাখতে না পারায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে ইসি)। নির্ধারিত সময়ের মাত্র ১৯ মিনিট পর নথিপত্র জমা দেয়ায় কমিশন এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ছিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম তার মনোনয়নপত্র নিয়ে কমিশনে পৌঁছান বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে। বিধি অনুযায়ী সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর আবেদন গ্রহণ করার সুযোগ না থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেন।

নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থানে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সময়ানুবর্তিতা এবং আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অসচেতনতাকেই অনেকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত