ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন ৯৪৮ স্থাপনা, পুনর্নির্মাণ ৬ হাজার ৩৬৪টির

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ১২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, কাজ হবে ১৬ হাজার ২৬৫ স্থাপনায়

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০
 ছবি:

ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১১ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ১৬ হাজার ২৬৫টি স্বাস্থ্য স্থাপনায় নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, মেরামত ও নবরূপায়নের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশের সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, উন্নীতকরণ, নবরূপায়ন এবং মেরামত ও সংস্কার কাজ’ শীর্ষক প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ৯৪৮টি নতুন স্বাস্থ্য স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি ৬ হাজার ৩৬৪টি স্থাপনা পুনর্নির্মাণ এবং ৮ হাজার ৯৫৩টি স্থাপনা মেরামত ও নবরূপায়ন করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা হলো ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এমন একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো তৈরি করা, যেখানে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি নারী ও শিশু স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, বয়োজ্যেষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী সেবা, মৌলিক রোগনির্ণয়, ওষুধ সরবরাহ এবং প্রয়োজন হলে উচ্চতর কেন্দ্রে রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা থাকবে।

ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার ৯৩৬টি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (পিএইচসি) হাব পুনর্নির্মাণ করা হবে। আরও ৮ হাজার ৩৪৮টি মেরামতযোগ্য হাব মেরামত ও নবরূপায়নের আওতায় আসবে। সেবাঘাটতিসম্পন্ন অগ্রাধিকারভুক্ত ওয়ার্ডে নতুন করে ৩৫০টি পিএইচসি হাব নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অন্যদিকে ৪২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পিএইচসি সেন্টার পুনর্নির্মাণ করা হবে। ৬০৫টি সেন্টার মেরামত ও নবরূপায়ন করা হবে। যেসব ইউনিয়নে বর্তমানে স্বাস্থ্য অবকাঠামো নেই, সেখানে ৫৯৮টি নতুন সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৪ হাজার ৬৩৪টি হাব এবং ১ হাজার ৬৩১টি সেন্টারে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নকাজ হবে।

প্রকল্প নথিতে শুধু ভবন নির্মাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব স্থাপনায় আসবাব, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ বা সৌরবিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রবেশব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

নারী, শিশু, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের সুবিধার জন্য মা ও শিশুর অপেক্ষার স্থান, নিরাপদ শৌচাগার, র‌্যাম্প, সহজে চলাচলের ব্যবস্থা, নির্দেশনামূলক সাইনেজ ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামোয় গ্রামীণ এলাকায় ইউনিয়নভিত্তিক এবং শহরাঞ্চলে ওয়ার্ড বা জনসংখ্যাভিত্তিক স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলার ধারণা দেওয়া হয়েছে। হাবকে জনগণের কাছাকাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আর সেন্টারে তুলনামূলক বিস্তৃত চিকিৎসা, মৌলিক রোগনির্ণয়, ফার্মেসি ও রেফারেল সমন্বয়ের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। জটিল রোগীদের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থাও এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

তবে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রকল্পের নথিতেই। ডিপিপিতে বলা হয়েছে, এসব উপকরণ ও সেবা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা না গেলে অবকাঠামো উন্নয়নের প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।

প্রকল্পের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে পরিচালন পর্যায়ে মোট ৫৬ হাজার ২২ জন জনবলের হিসাব করা হয়েছে। প্রকল্পজনিত অতিরিক্ত জনবল ১৪ হাজার ৬৬০ দশমিক ৮০ পূর্ণকালীন সমতুল্য হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে এই হিসাবকে নতুন স্থায়ী পদ সৃষ্টির ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না বলে ডিপিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্মাণ, পরিবহন, উপকরণ সরবরাহ ও পরীক্ষার বিভিন্ন কাজে স্থানীয় পর্যায়ে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিচালন পর্যায়ের কর্মসংস্থান থেকে বছরে ২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার হিসাব করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত সাম্প্রতিক সময়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। আগস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি চক্ষুসেবাকেও প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্য খাতে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও সরকার বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছে। মে মাসে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই। এবারের বাজেটে স্বাধীনতার পর ৫৪-৫৫ বছরের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাত সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা দেখেছি কোথাও হাসপাতাল ভেঙে পড়েছে, কোথাও যন্ত্রপাতি নষ্ট, কোথাও টেকনিশিয়ান নেই। এসব ঘাটতি পূরণ করতে আমরা কাজ করব।’

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে বেসিক প্যাথলজি ল্যাব তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বড় অংশ বিনা মূল্যে করার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অ্যাম্বুলেন্সসেবা নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, একটি জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়ে তোলা হবে, যাতে দেশের যেকোনো জায়গা থেকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে জলবায়ু ও দুর্যোগঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বন্যা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে স্থাপনার নকশা করার কথা বলা হয়েছে। হাওর এলাকার জন্য পৃথক নকশার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

নতুন ৫৯৮টি সেন্টারের মধ্যে ৫৫৯টি সাইটে জমি বাবদ ব্যয়ের জন্য ৬৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। জমির মালিকানা, দখল, সীমানা, প্রবেশপথ ও প্রয়োজনীয় দলিল যাচাইয়ের পর নির্মাণকাজ শুরু করার কথা বলা হয়েছে।

নির্মাণকাজ চলাকালে যাতে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ না থাকে, সে বিষয়েও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপদ অংশ, কাছাকাছি সরকারি ভবন অথবা অস্থায়ী ভবনে সেবা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য অস্থায়ী সেবা ভবন ভাড়া বাবদ ৯ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটির উদ্যোগী মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মাণকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর এসব স্থাপনা সচল রাখার বিষয়টিও ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জনবল, ওষুধ, ইউটিলিটি, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় রাজস্ব বাজেট থেকে বহনের কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ৩০ বছরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি বাস্তবায়িত হলে দরিদ্র ও দূরবর্তী এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিতে যাতায়াতের খরচ ও সময় কমতে পারে। অপেক্ষার সময়, কর্মঘণ্টার ক্ষতি এবং কিছু ব্যক্তিগত ওষুধ ও পরীক্ষার ব্যয়ও কমার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এসব সুবিধা নির্ভর করবে নির্মিত স্থাপনাগুলোতে নিয়মিত জনবল, ওষুধ, পরীক্ষার উপকরণ ও অন্যান্য সেবা কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যায় তার ওপর।

বর্তমানে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত ব্যয়, কাজের পরিমাণ বা বাস্তবায়নসূচিতে অনুমোদনের আগে পরিবর্তন আসতে পারে।
 

১

ভাইরাসে আক্রান্ত সুইডেনের পাঁচ ফুটবলার

২

হোয়াইটওয়াশের মিশনে আজ ভারত, বাঁচার লড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের

৩

দাবা খেলেই বিপদ, আফগানিস্তানে আটক তিন দাবাড়ু

৪

৫১তম বিশেষ বিসিএসে আবেদন যেভাবে, ফি ২০৫ টাকা

৫

শাহজালালের ইডিকে হুমকি: জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

৬

শাহজালালের ইডিকে হুমকি: জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

৭

শাহজালালের ইডিকে হুমকি: জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

৮

শাহজালালের ইডিকে হুমকি: জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

৯

দলীয় পরিচয়ে অপকর্মে জড়ালে কোনো ছাড় নয়: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

১০

দলীয় পরিচয়ে অপকর্মে জড়ালে কোনো ছাড় নয়: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

১১

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

১২

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

১৩

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

১৪

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

১৫

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

১৫

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

সম্পর্কিত