প্রতি ওয়ার্ডে প্রধান, উপদেষ্টা ও ১৫ সদস্যের প্রস্তাব

আবারও ফিরছে গ্রাম সরকার, কমিটিতে থাকবেন কৃষক-শ্রমিক-শিক্ষকও

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০
ছবি : জাগো নিউজ ছবি:
ছবি : জাগো নিউজ

দেশে আবারও ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রস্তাবিত আইনে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজসেবকের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, যুব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

খসড়ায় গ্রাম সরকারকে শুধু স্থানীয় উন্নয়নকাজে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক ও জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্বও প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এটি এখনো আইনের খসড়া; প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া বিষয়ে মতামত চাওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হবেন গ্রাম সরকারের প্রধান। সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য থাকবেন উপদেষ্টা হিসেবে। সদস্যদের মধ্যে থাকবেন দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবক, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্য, দুজন কৃষক, একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার, একজন সমবায় সমিতির সদস্য, একজন পল্লী চিকিৎসক, একজন শিক্ষক, একজন ব্যবসায়ী, একজন পেশাজীবী, একজন শ্রমিক এবং একজন যুব প্রতিনিধি। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য থাকলে তাঁদের মধ্য থেকেও একজনকে রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

কোনো শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি পাওয়া না গেলে গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবকের সংখ্যা বাড়িয়ে সেই ঘাটতি পূরণের বিধান রাখা হয়েছে। ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে—এমন ভোটারদের কমপক্ষে ১০ শতাংশের উপস্থিতিতে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

গ্রাম সরকার হবে ইউনিয়ন পরিষদের সহায়ক সংগঠন। খসড়ায় একে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২(১)-এ সংজ্ঞায়িত প্রশাসনিক একাংশ হিসেবে গণ্য না করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির নিজস্ব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তরের ক্ষমতা রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে ভূমিকা

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে রাস্তা, কালভার্টসহ বিভিন্ন প্রকল্পের পরিকল্পনা করবে প্রস্তাবিত গ্রাম সরকার। চলমান উন্নয়নকাজের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা করে ইউনিয়ন পরিষদকে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে।

শিক্ষা প্রসারে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবে তারা। পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নেও সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহারের উদ্যোগেও ভূমিকা রাখবে গ্রাম সরকার।

কৃষি উন্নয়নে সার, উন্নতমানের বীজ ও কীটনাশকের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে তারা। এসব উপকরণের সংকট দেখা দিলে ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার দায়িত্ব থাকবে। পাশাপাশি সমবায় সমিতি গঠন, ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন, হাঁস-মুরগির খামার, মৎস্য চাষ ও পশুপালনে মানুষকে উৎসাহিত করার প্রস্তাব রয়েছে।

বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, পরিবেশ ও প্রাণী সংরক্ষণ এবং নারী, যুব, প্রবীণ ও শিশুদের কল্যাণেও বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়ার সুযোগ থাকবে। গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্থানীয় বিরোধ মীমাংসায় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাম সরকারের লিখিত সিদ্ধান্ত আইনানুগ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করতে পারবে বলে প্রস্তাব রয়েছে।

অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ

নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক ও জুয়াসহ অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা গ্রাম সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ইউনিয়ন পরিষদকে জানাবে তারা। তবে খসড়ায় এই দায়িত্বের উল্লেখ থাকলেও গ্রাম সরকারকে স্বতন্ত্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়নি।

গ্রাম সরকার প্রধান, উপদেষ্টা ও সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে শপথ নিতে হবে। গঠনের ৩০ দিনের মধ্যে শপথের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর হবে এর মেয়াদ।

খসড়ায় সদস্য হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব হারানো বা পরিত্যাগ করা, আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিরা সদস্য হতে পারবেন না। নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড হলে মুক্তির পর পাঁচ বছর না পেরোনো পর্যন্ত সদস্য হওয়ার অযোগ্য থাকবেন। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ অনাদায়ী থাকলেও সদস্য হওয়া যাবে না বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।

যথাযথ তদন্তের পর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা, অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকে অপসারণ করা যাবে। যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলেও সদস্য পদ হারানোর বিধান রয়েছে।

বাতিলের ক্ষমতা থাকবে জেলা প্রশাসকের

প্রত্যেক গ্রাম সরকারের জন্য ‘গ্রাম সরকার তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া অর্থ এ তহবিলে জমা হবে।

গ্রাম সরকারের কার্যক্রম তদন্তের পর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, প্রশাসনিক বা আর্থিক দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা, জনস্বার্থবিরোধী কাজ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসক সেটি বাতিল করতে পারবেন। তবে বাতিলের আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাম সরকারকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে। বাতিল হলে নতুন গ্রাম সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের গঠিত এডহক কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।

খসড়ায় প্রথমবার গ্রাম সরকার গঠনের তারিখ সরকারি গেজেটের মাধ্যমে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নতুন গ্রাম সরকার গঠন করতে হবে। কোনো গ্রাম সরকার বাতিল হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুনটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

আগেও চালু হয়েছিল গ্রাম সরকার

বাংলাদেশে এর আগেও গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০০৩ সালে এ বিষয়ে আইন করা হয়; পরে আইনটি রহিত করা হয়। ওই আইনে প্রতি ওয়ার্ডে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৩ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম সরকার গঠনের বিধান ছিল। অপরাধ প্রতিরোধ, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার দায়িত্বও নির্ধারণ করা হয়েছিল।

নতুন খসড়ায় সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব এবং গ্রামীণ উন্নয়ন ও সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় দায়িত্ব নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি কবে এবং কীভাবে কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে খসড়ার পরবর্তী প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

১

লালমনিরহাটে পারিবারিক জমি বিরোধে বিএনপি নেতাদের জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

২

বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকায় অনেককে জুলাই যোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় : প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

৩

দিল্লির যন্তরমন্তরের আশপাশে ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ইন্টারনেট

৪

হু ইজ হাদি?- টকশোতে ভিপি নুরের মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

৫

মেট্রোরেলের পিলারে খালেদা জিয়াসহ থাকছে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি

৬

বায়তুল মোকাররমের খতিবের অপপ্রচারের অভিযোগে বিএনপির যুগপতের সঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের বিক্ষোভ

৭

জামালপুরের মেলান্দহে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে ইমাম উধাও, থানায় অভিযোগ

৮

মৌলবাদ মোকাবিলায় সংস্কৃতিকে কাজে লাগাতে হবে : সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

৯

হাদির লড়াই জিয়াউর রহমানের চেয়েও শক্তিশালী: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

১০

বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস

১১

শান্তিতে নোবেল পেলেন মানবাধিকার কর্মী নাভেনথাম নাভি পিলাই

১২

হাসিনার কবরটাও দেয়ার মতো সাহস বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কারো নেই: রাশেদ খাঁন

১৩

স্থানীয় নির্বাচনে ধোঁকাবাজ-চাঁদাবাজদের বর্জন করতে হবে: চরমোনাই পীর

১৪

উন্নীত স্কেলের জটিলতায় উচ্চতর গ্রেড থেকে বঞ্চিত প্রাথমিকের শিক্ষকরা

১৫

চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন, আরও ট্র্যাক নির্মাণের আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত