বিদেশের মাটিতে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফিরে পেয়েছেন বাংলাদেশের এক সাংবাদিক। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গাড়িতে ফোন ফেলে নেমে যাওয়ার পর দেশটির পুলিশের সহযোগিতায় সেটি ফিরে পান তিনি।
থাই পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও দেশটির ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন ওই সাংবাদিক।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন স্বপ্না চক্রবর্তী।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কী দুর্দান্ত দেশটার সিস্টেম! বিদেশ ভ্রমণ যেটাকে বলে, সেটা বলতে গেলে এই প্রথম। একা একা মুভ করা একটু কঠিন হবে, সেটাই স্বাভাবিক। আর তাই হলো।’
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বপ্না চক্রবর্তী লেখেন, ‘অ্যাসাইনমেন্টে যাওয়ার সময় (স্থানীয় পরিবহনসেবা) ভোল্ট কারে (আমাদের দেশে যেমন উবার) মোবাইল রেখেই তাড়াহুড়ো করে ভাড়া দিয়ে কনভেনশন সেন্টারের সামনে নেমে গেলাম। যেহেতু ভিভিআইপি সেমিনার তাই কোনো গাড়ির যাত্রী নামিয়ে দিয়ে মিনি সেকেন্ড দাঁড়ানোর সুযোগ নাই। কার ড্রাইভার আমাকে নামিয়েই দিলো ফুল স্পিডে টান।’
স্বপ্না জানান, ফোন খোয়া গেছে বুঝতে পারার পর তিনি ড্রাইভারকে ডাকতে যান। কিন্তু ততক্ষণে ড্রাইভার চলে যাওয়ায় বেশ বিমর্ষ হয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা থাই পুলিশের এক সদস্য তার কাছে এসে হাতের ইশারায় জানতে চান, কী হয়েছে। স্বপ্না চক্রবর্তীও ইশারায় তাকে বোঝান, গাড়িতে তার মোবাইল ফোন রয়ে গেছে।
তিনি লেখেন, ‘ততক্ষণে কার ড্রাইভারের পেছনে ডাকতে গিয়ে আমার চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। মোবাইল ছাড়া বিদেশ-বিভুঁইয়ে কোথায় কী করব? ঠিক তখনি সামনে দাঁড়ানো থাই পুলিশ বাহিনীর এক সদস্য আমার সামনে এসে হাতের ইশারায় জানতে চাইলো কী হয়েছে। আমিও হাতের ইশারায় বোঝালাম আমার মোবাইল কারে রয়ে গেছে। সে তার ওয়াকিটকিতে কী যেনো বললো আর আমাকে ইশারায় বলল দাঁড়াও।’
কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি মোটরসাইকেলে এক ব্যক্তি সেখানে এসে তার সামনে দাঁড়ান। তার হাতে ছিল হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি। এ বিষয়ে স্বপ্না চক্রবর্তী লেখেন, ‘এরপরই একটা বাইকে এসে এক ভাই এসে আমার সামনে দাঁড়ালেন। আমার ফোন হাতে দিয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করলেন, এটা আপনার?’
‘ইয়েস বলতেই বলল লক খুলে দেখাও আমাকে। দেখালাম.. মিষ্টি হাসি দিয়ে মোবাইলটা আমার হাতে ফিরিয়ে দিল,’ যোগ করেন তিনি।
ফোন ফিরে পাওয়ার আনন্দে ওই ব্যক্তির সঙ্গে সেলফি তোলার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। স্বপ্না লেখেন, ‘বললাম সেলফি? খুশিতে সবগুলো দাঁত বের হয়ে গেলো তার।’
‘সবকিছু ঘটলো মাত্র ৫ মিনিটে...ভাবা যায়?’ পোস্টের শেষে লেখেন দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট।
স্বপ্না চক্রবর্তী বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় সংবাদ সংগ্রহে দেশটিতে অবস্থান করছেন।