কেন এক বছরেরও বেশি সময় কুরআন শিখেছেন ইয়ামি গৌতম

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

রূপালি পর্দার গ্ল্যামার আর ঝলমলে জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে দীর্ঘ প্রস্তুতি, গবেষণা আর কঠোর পরিশ্রমের গল্প যা অনেক সময় দর্শকের চোখে ধরা পড়ে না। তেমনই এক নিবিড় প্রস্তুতির উদাহরণ তৈরি করেছেন বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম, যিনি তার নতুন আলোচিত চলচ্চিত্র ‘হক’-এর জন্য প্রায় দেড় বছর ধরে গভীর অধ্যয়ন ও গবেষণার মধ্য দিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। এনডিটিভি

সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কের সঙ্গে চলচ্চিত্রটির পরিচালক সুপর্ণ এস ভার্মা এক সাক্ষাৎকারে জানান, সিনেমাটির চরিত্র ও গল্পকে বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে পুরো টিমকে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করতে হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামী আইন ও ধর্মীয় সামাজিক প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য তারা প্রায় দেড় বছর সময় ব্যয় করেন। তার ভাষায়, বর্তমান সময়ে তথ্যের ভিড়ে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই ‘হক’ কে একটি যুক্তিনির্ভর ও সচেতন কণ্ঠস্বর হিসেবে উপস্থাপন করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

এই সিনেমায় ইয়ামি গৌতম অভিনয় করেছেন ‘শাজিয়া বানু’ নামের এক নারীর চরিত্রে, যিনি ১৯৭০-এর দশকের ভারতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যান এবং এক পর্যায়ে নিজের অধিকার আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন। গল্পে তার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে এবং ভরণপোষণ দিতে অস্বীকৃতি এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এক দীর্ঘ আইনি লড়াই।

পরিচালকের মতে, চরিত্রটির গভীরতা ও বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে ইয়ামি গৌতম নিজেও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি শুধু চরিত্র বিশ্লেষণই নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য ইসলামী আইন সম্পর্কেও পড়াশোনা করেছেন এবং পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন দিক অধ্যয়ন করেছেন বলে জানান পরিচালক।

চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে নারী অধিকার, ন্যায়বিচার এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়কে কেন্দ্র করে। প্রযোজনায় রয়েছে জাংলি পিকচার্স, ইনসোমনিয়া ফিল্মস এবং বাওয়েজা স্টুডিও। মুক্তির পর এটি প্রেক্ষাগৃহে ভালো সাড়া পাওয়ার পর ওটিটিতে আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়।

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর, ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি ওটিটিতে মুক্তি পায় ‘হক’ এবং দ্রুতই এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। বর্তমানে সিনেমাটি স্ট্রিমিং হচ্ছে নেটফ্লিক্সে।

পরিচালকের মতে, এই সিনেমার মূল লক্ষ্য শুধু একটি গল্প বলা নয়, বরং সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তির মধ্যেও একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা। তাই ‘হক’ ধীরে ধীরে একটি সাধারণ সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক বার্তাবাহী একটি আলোচিত কাজ হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে দর্শকমহলে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত