কোনো এক ব্যক্তির নির্দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, “কোনো এক ব্যক্তির নির্দেশে কিছু হয়নি। সেদিন (১৯৭১ সালে) শেখ মুজিবুর রহমান বন্দি হয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হামলায় যখন মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন তখন মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।”
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ উপলক্ষে শনিবার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী-এর নেতৃত্বে এবং জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সেক্টর কমান্ডাররা একত্রিত হয়ে যুদ্ধের পরিকল্পনা করেন। ১৯৭১ সালের এই দিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের ‘সূতিকাগার’ হিসেবে পরিচিত।
তিনি বলেন, জেনজিরা দেশের ইতিহাস ভালো জানে না, গত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে দেয়নি।
বিএনপি সংস্কার চায় না- এমন বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ দাবি করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি বিএনপি প্রথম শুরু করে। ২০১৬ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তনে ভিশন ২০৩০ প্রস্তাব করেন। আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে কাজ করছি।”
হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, মুক্তিমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সৈয়দ মো. ফয়সল ও ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন।