চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতি ‘নষ্ট’ করা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির জেরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি জাতীয় সংসদের আলোচনায়ও উঠল।
সংঘর্ষের সময় একজনের ‘পা কেটে নেওয়ার’ অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর এক সদস্যের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তদন্তের আগে কারো ওপর দায় না চাপানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রামের এই কলেজে ধারাল অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার জন্য ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পরস্পরকে দায়ী করছে।
এদিন রাতে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার শেষ দিকে সংঘর্ষের প্রসঙ্গটি টানেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
সংঘর্ষের সময় একজনের ‘পা কেটে নেওয়ার’ অভিযোগ তুলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শাহজাহান চৌধুরীর দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যারা নিউমার্কেটে হামলায় জড়িত ছিল, তাদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ আবার ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ একটি সমাবেশে হামলা করেছে।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার কাছেও তথ্য এসেছে, তবে পুরো ঘটনা জানতে সময় লাগবে। তিনি বলেন, “কারেন্ট নিউজ তো মাননীয় স্পিকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আসে বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট থেকে। আমি এটুকু জানি চট্টগ্রামে আজকে এরকম ঘটনা হয়েছে। তবে কী ঘটেছে, কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত দরকার। প্রকৃত ঘটনা জানতে গেলে আমার একটু সময় লাগবে। আমি প্রয়োজনে সেটার উপরে ৩০০ বিধিতে বিবৃতিও দিতে পারব।’ তদন্ত ছাড়া একটি রাজনৈতিক দলের ওপর দায় চাপানো ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তার ভাষায়, “একতরফাভাবে ‘ব্লেইম’ আমি যেমন দিতে চাই না, মাননীয় সদস্যেরও উচিত নয়। আমরা যদি এরকম কোনো ঘটনা হয়, সেটা অবশ্যই থানায় মামলা দায়ের করতে হবে। যথাযথ তদন্ত হবে এবং সুষ্ঠুভাবে সেটা তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে। ‘ইনকোয়ারির’ আগেই যদি আমরা পরস্পর দোষারোপ করি, এই কালচার থেকে আমরা বেরিয়ে যাই।”
এ সময় অধিবেশন পরিচালনাকারী ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল আহমদ বলেন, চট্টগ্রামের সদস্য বারবার দাঁড়াচ্ছিলেন, কিন্তু তিনি কী বলতে চান তা প্রথমে বোঝা যায়নি। পরে বিষয়টি সাম্প্রতিক হওয়ায় তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সংসদ পরিচালনার জন্য কিছু বিধি ও নিয়ম আছে, সেগুলো মেনেই চলতে হবে।