জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকা থেকে রংপুরের লং মার্চে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে তা মানবো না। সেই বাধাকে
উপেক্ষা করেই রংপুরের দিকে অগ্রসর হবো। সরকারের প্রতি আহ্বান, জনগণের দাবিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নিন। না হলে আপনারা ফ্যাসিস্ট সরকারের চরিত্রের দিকে চলে যাচ্ছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধান সংশোধন করে তা জনগণের ওপর চাপিয়ে ক্ষমতায় বসে থাকবেন, সেই দিন শেষ
হয়ে গেছে।
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্ত্বরে দলীয় কার্যালয়ে আগামীকালের ঢাকা টু রংপুর লং মার্চ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ ২৬৫ আসন পেয়েছিল। তাদের বন্ধু দেশকে নিয়ে গর্ব করতো। পুলিশ, আর্মিসহ সবাইকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে নাই। তারা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। জনগণ বলছে, আওয়ামী লীগ পালিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিয়েছে, বিএনপি পালিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবে। এজন্য সরকারকে বলবো আপনার জনগণের কথা কান পেতে শোনেন, জনগণ কি লিখছে দেওয়ালগুলোর দিকে তাকান।
তিনি আরও বলেন, হাসিনার মতো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে অবহেলা করে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। দাবি না মানলে জনগণের আকাঙ্খিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশবাসীকে জানাতে চাই, আসুন দাবিগুলোর প্রতি সমর্থন দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ সফল করি। আর সরকারের কাছে দাবি জানাতে চাই, জনগণের চাওয়াকে উপলব্ধি করে আগামী সংসদে সংবিধান সংস্কারের শপথ নিন, অথবা সংবিধান সংস্কারে ঐক্যমতের ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করুন। যেন স্থায়ীভাবে সমাধানের
দিকে আমরা যেতে পারি। এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশে তেলের সংকট হয়েছিল। সরকারি দল, বিরোধীদল মিলে মিটিং করে আমরা দুই দিনের মধ্যে তা সমাধান করেছি। বিদ্যুতের সংকটের সময় জামায়াতের আমির সরকারি দল ও বিরোধীদল মিলে সংকট সমাধানের কথা বলেছিল। কিন্তু সরকারি দল কোনো
কর্ণপাত করেনি। সংসদে স¤পত্তি হস্তান্তর আইন পাস হয়েছে। যা ইসলামী শরিয়াহ বিরোধী।
সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করেছে। এছাড়া চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে। লং মার্চের দাবিগুলো জামায়াতের নয়, এটি জনগণের। তাই জনগণ এ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫
আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, জামায়াতে ইসলামীর দিনাজপুর-রংপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, প্রচার ও মিডিয়া স¤পাদক অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া স¤পাদক সামসুল হক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ করা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিলের দাবিতে আগামীকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা টু রংপুর লংমার্চ শুরু হবে। সকাল ৯টায় গাজীপুর ভোগড়া বাইপাস রোড, সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইল নগর জালফৈ বাইপাস রোড, দুপুর ১২টায় সিরাজগঞ্জ হাটিকমরুল মোড়, বিকাল ৪টায় বগুড়া মাটিডালি বিমান মোড়, বিকাল সাড়ে ৫টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড়ে পথসভা এবং সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ সফল করতে রংপুর জিলা স্কুলে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া জেলাজুড়ে মাইকিং, তোরণ নির্মাণ, দেওয়াল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যানার পোস্টার টানিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে।
শু/আজা