মিরপুর, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ীতে পৃথক ঘটনা; ককটেল বিস্ফোরণে রিকশাচালক আহত, রাজধানীতে ২০০টির বেশি চেকপোস্ট
রাজধানীর মিরপুর, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ীতে পৃথকভাবে বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর মিরপুর-১১, মিরপুর-১ ও মধ্য বাড্ডায় তিনটি বাসে আগুন এবং যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এতে এক রিকশাচালক আহত হয়েছেন।
সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার সামাদ সুপার মার্কেটের সামনে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) খালিদ হাসান জানান, এতে মো. বিল্লাল হোসেন নামে এক রিকশাচালক আহত হন। তাঁকে প্রথমে থানায় নেওয়া হয়, পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরের জমজম টাওয়ারের সামনে শিকড় পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
একই সময়ে মিরপুর-১ আনসার ক্যাম্প এলাকায় অভিজাত পরিবহনের একটি বাসেও আগুন লাগে। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত আগুন নেভানো হয় বলে জানান মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান। এ ঘটনায়ও কেউ হতাহত হয়নি।
রাত ৮টার দিকে মধ্য বাড্ডায় একটি গ্যারেজের সামনে পার্ক করে রাখা আলিফ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। কে বা কারা বাসটির পেছনে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলেন।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যাত্রাবাড়ী, মগবাজার, মহাখালী ও আগারগাঁওয়ে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই রাতে কাফরুলে মিরপুর সুপার লিংক পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগে।
পরপর এসব ঘটনায় রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০০টির বেশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার চারটি গুরুত্বপূর্ণ পথেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশির পাশাপাশি পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।