দূর থেকে দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায় দেশের একমাত্র ঝিনুক আকৃতির আইকনিক রেলস্টেশনটি দেখে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, বিশাল ভবন, প্রশস্ত পার্কিং এবং নান্দনিক ডিজাইনের কারণে উদ্বোধনের পর থেকেই এটি ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে কেবল ভবনের বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে তো আর যাত্রীসেবা নিশ্চিত হয় না। স্টেশনটির ভেতরে মিলছে না পর্যটকদের কাঙ্ক্ষিত ও আধুনিক সেবা। আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি এর ভেতরের লকার, হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সেবামূলক কার্যক্রম। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা।
২৯ একর জমির ওপর প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের ছয়তলা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই আইকনিক স্টেশনে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছ। যেমন তথ্যকেন্দ্র ও আধুনিক যাত্রী লাউঞ্জ, মসজিদ ও শিশুদের খেলার জায়গা, শপিং মল, রেস্টুরেন্ট, শিশু যত্ন কেন্দ্র এবং ২৯ কক্ষের তারকামানের হোটেল, কনফারেন্স হল
লকার সুবিধা, বাণিজ্যিক স্পেস।
২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের পর নিয়মিত ট্রেন চলাচল শুরু হলেও, স্টেশনের ভেতরের এই বহুমুখী সুযোগ-সুবিধার বেশিরভাগই এখনো সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।
স্টেশনে নেমে ট্রেনযাত্রীদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন হোটেল বা রিসোর্টে যাওয়ার আগে মালপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েন। স্টেশনে নিরাপদ লকার সুবিধা না থাকায় তাদের মূল্যবান ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে দর্শনীয় স্থান বা সৈকতে ঘুরতে যেতে হয়।
রাজধানী ঢাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি তানভীর ও ফারিহা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "স্টেশনটি বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করলে দেখি রেস্টুরেন্ট বা বসার ভালো ব্যবস্থা সীমিত, আর লকার বা থাকার হোটেলের মতো জরুরি সেবাগুলো বন্ধ। ট্রেন থেকে নেমেই লাগেজ নিয়ে আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।"
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্টেশনটিকে কেবল পারাপারের মাধ্যম নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নানা জটিলতার কথা বলা হলেও, ভুক্তভোগী ও পর্যটকদের দাবি—দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্টেশনের বন্ধ থাকা বাণিজ্যিক স্পেস, হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো ইজারা বা পরিচালনার মাধ্যমে চালুকরণ নিশ্চিত করা হোক। তা না হলে এই নান্দনিক স্থাপনার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন উদ্যোক্তা, হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পর্যটননগরী কক্সবাজারের এই রেল স্টেশনটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হতে পারে। কিন্তু উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত সেবাগুলো চালুর উদাসীনতায় এর পূর্ণ সুফল মিলছে না। স্টেশনটিতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ করা জরুরি। বিশেষ করে লকার, রেস্টুরেন্ট এবং তারকামানের হোটেলটি দ্রুত চালু করা হলে পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
শু/আজা