ঝালকাঠিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ২

সিনিয়র রির্পোটার
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

ঝালকাঠিতে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে দুই দফায় তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সোমবার রাতে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের একটি ফাঁকা শয্যায় তিনি শুয়ে ছিলেন। রাত তিনটার দিকে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে তাঁকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, বাইরে খাওয়ানোর কথা বলে তাঁকে হাসপাতাল থেকে বের করে মোটরসাইকেলে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান ওই দুই ব্যক্তি। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভোরে হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ধর্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে হাসপাতালের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী নারী জানান, তাঁর বয়স প্রায় ৬০ বছর। ঝালকাঠি সদর এলাকার বাসিন্দা তিনি। ১৫ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। তাঁর তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। সন্তানরা হতদরিদ্র হওয়ায় কেউ নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর রাখতে পারেন না। ফলে প্রায় এক বছর ধরে তিন বেলা খাবারের আশায় তিনি হাসপাতালের বারান্দা কিংবা রোগীদের খালি বিছানায় অবস্থান করছেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাসুম ইফতেখার বলেন, ওই নারী হাসপাতালের ভর্তি রোগী ছিলেন না। ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ওই নারীর পাশের শয্যায় থাকা এক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতাল এলাকা থেকে বেলাল সিকদার (৪৫) নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেলা পৌনে দুইটার দিকে বরিশাল থেকে নাসির নামের আরেক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। নাসির মোটরসাইকেলচালক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঝালকাঠি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী নারীর মেজ ছেলে বলেন, ‘মোরা বদলা (শ্রমিক) দিয়া খাই, যা কামাই হরি হে মোগো সংসারেই খরচ কইরা টানাটানি লাইগ্গা যায়। হেইয়ার লইগ্গা মোর মায়ের খরচ চালাইতে পারি না। হাসপাতালে মাগনা খাওনের আশায় মা থাকতে যায়, কিন্তু মানুষরূপী পশুর দল যা করছে এয়ার বিচার সরকারের ধারে চাই।’

 

শু/আজা

এলাকার খবর

সম্পর্কিত