জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ওমেন্স ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-২০২৬-এর ফাইনালে স্বাগতিক টাঙ্গাইলকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুর জেলা প্রমিলা ফুটবল দল।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে উঠলেও গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এরপর সরাসরি টাইব্রেকারে গড়ায় শিরোপার লড়াই।
টাইব্রেকারে রংপুরের তিনটি শট জালে জড়ালেও টাঙ্গাইলের কোনো শট গোল হয়নি। ফলে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে রংপুর। দলের গোলরক্ষক সুমাইয়া টাইব্রেকারে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে রংপুরের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।
টুর্নামেন্টজুড়ে গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন রংপুরের অনন্যা। ছয় গোল করে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্বাচিত হন তিনি। অন্যদিকে পুরো আসরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন টাঙ্গাইলের মিম। বেস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (এমভিপি) হয়েছেন রাঙামাটির থুইকারিমা মারমা।
ফাইনাল শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহাফুজা আক্তার কিরণ এবং টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।
এই শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ওমেন্স ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে রংপুরের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সংখ্যা দাঁড়াল ছয়ে। এর আগে ২০১৪, ২০১৬, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রংপুরের বালিকা দল।
রংপুর জেলা প্রমিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক অনন্যা খানম বলেন, “সবাই দারুণ খেলেছে। আমরা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে রংপুর থেকে এসেছিলাম। চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরতে পারছি, এটা ভীষণ আনন্দের। নতুন কুঁড়ির শিরোপার পর জেএফএর শিরোপার ধারাবাহিকতা আমাদের আগামীতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।”
দলের কোচ রুমা আক্তার বলেন, “রংপুর পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ছিল। এবার হেক্সা মিশন পূরণের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। মেয়েরা জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।”
শু/আজা