দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত না হলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এজন্য নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে সমাজের উন্নয়নে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে লালমনিরহাটের মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজে নবনির্মিত ছয়তলা একাডেমিক ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘মাকে আগে শিক্ষিত করতে হবে। মা শিক্ষিত হলে সন্তান শিক্ষিত হবে।’ বেশিরভাগ বাবা কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মায়েরা প্রতিনিয়ত সন্তানদের পাশে থেকে তাদের মানুষ করার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা গেলে জাতিও শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হবেন। এজন্য সরকার বর্তমান বাজেটে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।
শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দুলু বলেন, শিক্ষকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো ঘটনা কোনোভাবেই সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। এ ধরনের ঘটনা সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নির্দেশ করে।
নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ ও শিষ্টাচার ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষার প্রসার ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু নতুন একাডেমিক ভবন, বাস কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না। সমাজ নিরাপদ না হলে এসব উন্নয়নের প্রকৃত মূল্য থাকে না। সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠানোর পর অভিভাবকদের মনে যেন অপহরণ বা নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কা না থাকে, এমন কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, উপাধ্যক্ষ মো. শরিফুল ইসলাম, লালমনিরহাট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল করিম সাদেকীসহ অনেকে।
পরে মন্ত্রী লালমনিরহাটের বড়বাড়ীতে শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ে এসএসসি ২০২৬ ব্যাচের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।