পাহাড়তলী রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম শুরু হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাদকের আসর বসে এবং বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় গত বছর অনেক শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিফিনের টাকা নেওয়া হলেও নিয়মিত টিফিন দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ নাইট গার্ডের থাকার কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই নাইট গার্ডের নিয়োগ সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অবগত নন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাইট গার্ড থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে, কিন্তু এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, খণ্ডকালীন শিক্ষকদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এছাড়া সাত মাস ধরে কয়েকজন খণ্ডকালীন শিক্ষক বেতন পাচ্ছেন না। সিআরবি হেড অফিস থেকে একাধিকবার বেতন প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হলেও প্রধান শিক্ষক তা বাস্তবায়ন করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এসব শিক্ষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

প্রধান শিক্ষক নিয়মিত শিক্ষকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তাঁর মধ্যে শৃঙ্খলাবোধের অভাব রয়েছে এবং তিনি সবসময় উগ্র আচরণ করেন।

জানা যায়, সহকারী শিক্ষক থাকাকালে একই ধরনের আচরণের অভিযোগে ১ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে রেলওয়ে প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে বুক-আপ অর্ডার জারি করে। পরে ২২ জানুয়ারি ২০১৮ সালে প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া ৩ জুলাই ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে পাবলিক পরীক্ষার সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। পরে এক মাস সিআরবি হেড অফিসে সংযুক্ত রেখে অন্যত্র বদলি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পুনরায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পরও তিনি আগের মতোই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। সরকারি নিয়ম-নীতি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার মান দিন দিন অবনতি ঘটছে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধান শিক্ষক বলেছেন, "আমি কাউকে মানি না, আমার মতো করেই আমি স্কুল চালাবো।"

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা একযোগে আন্দোলন করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাঁকে অন্যত্র বদলির ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেন।

এদিকে বিদ্যালয়ের স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুমন দাশকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আহত সুমন বর্তমানে চট্টগ্রাম রেলওয়ে সিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় নাইট গার্ডসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। বরং মামলার আসামিদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করে মামলা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এসব ঘটনার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। তাঁরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিভাবক সাইফুল ইসলাম বলেন, "এই স্কুলের একসময় অনেক সুনাম ছিল। আমরা যখন এখানে পড়েছি, তখন পরিবেশ অনেক ভালো ছিল। কিন্তু এখন সেই সুনাম নেই। আগামী বছর আমার ছেলেকে অন্য স্কুলে ভর্তি করাব। বর্তমানে এখানে পড়াশোনার পরিবেশ নেই বললেই চলে। দিন দিন শিক্ষার মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।"

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান। তিনি বলেন, "আমার বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি ভালো। আমাকে নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।"

 

শু/আজা

বিষয়:

চট্টগ্রাম
এলাকার খবর

সম্পর্কিত