জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলে পরপর দুই নেতার পদত্যাগ ঘিরে তৃণমূলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. মেহেদী হাসান রিংকু ও দপ্তর সম্পাদক মো. ইবনে হাসান পৃথক পদত্যাগপত্র দিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মেহেদী হাসান ‘কর্মীর অবমূল্যায়ন ও রাজনৈতিক অবকাঠামো ভঙ্গের’ কথা উল্লেখ করলেও ইবনে হাসান ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যস্ততার কারণ দেখিয়েছেন।
১০ ও ১১ আগস্ট সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবর দেওয়া চিঠিতে তাঁরা পদত্যাগের আবেদন করেন।পদত্যাগপত্রে সাংগঠনিক অসন্তোষ
মেহেদী হাসান রিংকু ২০২২ সালের ১ নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
পদত্যাগপত্রে তারা বলেন, কর্মীর অবমূল্যায়ন ও রাজনৈতিক অবকাঠামো ভঙ্গের কারণে তাঁর পক্ষে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি কারও দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন বলেও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে দপ্তর সম্পাদক ইবনে হাসান ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন।
কারণ আলাদা হলেও একই শাখার দুই নেতার পরপর পদত্যাগে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পোগলদিঘা ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসাইন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সম্মুখসারিতে থাকা অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর মতে, পোগলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দুই নেতার পদত্যাগও সেই হতাশার ধারাবাহিকতার অংশ। তিনি পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি করেন।
তবে দুই নেতার পদত্যাগপত্রে সরাসরি ত্যাগীদের বঞ্চনার কথা নেই। মেহেদী হাসান সাংগঠনিক অসন্তোষ এবং ইবনে হাসান ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করেছেন।
পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ ফকির বলেন, 'ছাত্রদলের দুই নেতার পদত্যাগের বিষয়টি অবগত হয়েছি। দলীয় সাংগঠনিক মিটিংয়ে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
এদিকে পোগলদিঘা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান ফরহাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'অনেক কঠিন সময়ের কর্মসূচি, ৫ তারিখের পর থেকে দালালের অভাব নেই, দালালেরা মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।' তবে ‘দালাল’ বলতে তিনি কাদের বোঝাচ্ছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাছুদ রানা চপল জানান, পদত্যাগপত্র ফেসবুকে দিলে তো হবে না। আমরা অফিসিয়ালি কোন পদত্যাগপত্র পাইনি।
একই ইউনিয়ন শাখার দুই নেতার পরপর পদত্যাগ এবং একজনের পদত্যাগপত্রে কর্মীর অবমূল্যায়ন ও রাজনৈতিক অবকাঠামো ভঙ্গের অভিযোগকে নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকে।
শু/আজা