পাকিস্তানে গুলিতে নিহত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা মো. রমজান আলীর মৃত্যুর তিন দিন পার হলেও ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে, কারা তাঁকে গুলি করেছে এবং হত্যার কারণ কী—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের প্রধান সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রকাশ্য তথ্যেও এখন পর্যন্ত তাঁর হত্যার ঘটনার বিস্তারিত পাওয়া যায়নি।
৫২ বছর বয়সী রমজান আলী সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নড়ালিয়া গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামানের বাড়ির মৃত আবুল খায়ের ও নুরজাহান বেগমের ছেলে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে পাকিস্তানে যান তিনি। সেখানে দীর্ঘদিন একটি টেক্সটাইল মিলে কাজ করছিলেন।
পরিবারের কাছে পৌঁছানো তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে পাকিস্তানে কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে কোন শহরে বা কোন টেক্সটাইল মিলে ঘটনাটি ঘটেছে, সে তথ্য পরিবারও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি।
পাকিস্তানের Dawn, Geo News, The News International, Express Tribune, ARY News, Samaa, Dunya News, Nawaiwaqt ও Jang-এর ৩০ আগস্ট এবং পরবর্তী দিনের অনলাইন সংবাদ ও ক্রাইম রিপোর্টে অনুসন্ধান চালিয়েও রমজান আলীর নাম বা বাংলাদেশি কোনো টেক্সটাইল শ্রমিককে ওই রাতে গুলি করে হত্যার তথ্য পাওয়া যায়নি।
Dawn-এর ৩০ আগস্টের সংবাদ আর্কাইভে সিন্ধের দাদুতে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে আটজন নিহতসহ দেশের বিভিন্ন সহিংস ঘটনার খবর প্রকাশিত হলেও রমজান আলীর ঘটনার উল্লেখ নেই। একইভাবে Geo News-এর ওই দিনের ক্রাইম প্রতিবেদনের তালিকাতেও তাঁর হত্যার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
করাচি ও সিন্ধের স্থানীয় উর্দু সংবাদমাধ্যমেও ‘রমজান আলী’, ‘বাংলাদেশি’, ‘বাঙালি’, ‘টেক্সটাইল শ্রমিক’ ও ‘গুলিতে নিহত’—এমন বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটির সঙ্গে সরাসরি মেলে এমন কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
ফলে রমজান আলীকে যারা গুলি করেছে তাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টিও এখন পর্যন্ত পাকিস্তানি পুলিশ বা অন্য কোনো স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে পরিবারের বরাতে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার জন্য সম্প্রতি রমজান বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদন করেছিলেন। তাঁর পরিচয় ও বাংলাদেশের ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য দূতাবাস থেকে সীতাকুণ্ড থানায় তথ্যও চাওয়া হয়েছিল।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ডিএসবি শাখার এসআই মো. হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, পাকিস্তানে বসবাসরত রমজান আলী নামে এক ব্যক্তির বিষয়ে দূতাবাস থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল এবং চার-পাঁচ মাস আগে তাঁর বাড়বকুণ্ডের ঠিকানা যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
পরিবার জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই রমজানের বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত এবং বিয়ে করে সংসার করার ইচ্ছার কথাও তিনি স্বজনদের জানিয়েছিলেন।
তবে তাঁর মরদেহ বর্তমানে পাকিস্তানের কোথায় রাখা হয়েছে, কোনো থানায় হত্যা মামলা হয়েছে কি না, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কে এবং পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে কী জানিয়েছে—এসব তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি থানার এফআইআর বা পুলিশ রিপোর্ট পাওয়া এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।