কেরানীগঞ্জে কৃষিজমি ও জলাভূমি রক্ষায় ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, ভূমিদস্যুদের দুর্বল ভাবার সুযোগ নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর পাইনা এলাকায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ভূমিদস্যুদের হাত অনেক বড়। তাঁরা উচ্চ সমাজে বাস করেন। তাঁদের দুর্বল ভাবলে চলবে না।’ ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কেরানীগঞ্জ একসময় কৃষিপ্রধান এলাকা ছিল উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের কারণে এলাকার কৃষিজমি ও জলাভূমি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। আবাসন প্রকল্পের নামে কৃষকের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। অনেক কৃষক জমি বিক্রি করেও পুরো অর্থ পাননি। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকল্পের অনুমোদিত নকশার চেয়ে বেশি প্লট বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডে শুধু কৃষকেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, জমির ক্রেতারাও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, কৃষিজমি ও জলাভূমি রক্ষার পাশাপাশি জমির মালিক ও ক্রেতাদের স্বার্থও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। বাস্তবায়নের পথে নানা ধরনের বাধা আসতে পারে। এমনকি সরকারি প্রশাসনের ওপরও বিভিন্ন ধরনের চাপ বা হুমকি আসতে পারে। তাই এসব সমস্যা মোকাবিলায় ধৈর্য, সমন্বয় ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।
তিনি বলেন, কৃষিজমি ও জলাভূমি রক্ষার দায়িত্ব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়। স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভূমিদস্যুতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ জমির মালিক ও কৃষকদের অধিকারও রক্ষা করতে হবে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, কেরানীগঞ্জের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল এলাকায় উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা জরুরি। আবাসন বা অবকাঠামো উন্নয়নের নামে কৃষিজমি ও জলাশয় নির্বিচারে ভরাট করা হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পুরো এলাকার ওপর পড়বে।
পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে প্রায় ১৫০ কেজি রুইজাতীয় মাছের পোনা স্থানীয় অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে ছাড়া হয়। মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি এবং জলাশয়ের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওমর ফারুক, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কারিশমা আহমেদ জাকসি, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির নেতা খোরশেদ জমিদার, ইমানউল্লাহ, সামিউল্লাহসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।