পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলার প্রধান আসামি এবং একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আদম আলীকে (৬০) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চণ্ডিপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ বলছে, নিষিদ্ধ চরমপন্থী দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিহত আদম আলী উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি সাবেক ইউপি সদস্যও ছিলেন। একদন্ত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, আদম আলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে একদন্ত বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন আদম আলী। পথে চণ্ডিপাশা গ্রামের আহমেদ আলীর বাড়ির সামনে একদল দুর্বৃত্ত তাঁর পথরোধ করে। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ‘নিষিদ্ধ চরমপন্থী দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আদম আলীর বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ষাটগাছা গ্রামের এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আদম আলী প্রধান আসামি ছিলেন। ওই ঘটনায় তাঁকে র্যাব গ্রেপ্তার করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ জানায়, তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এতে আদম আলীকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। প্রায় এক বছর কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন। এরপরই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হলো।
তবে আদম আলীর বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাঁর অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যের বাইরে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আদম আলীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তিনি একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। একই সঙ্গে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিষিদ্ধ একটি চরমপন্থী দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, পূর্বশত্রুতা কিংবা চরমপন্থী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধসহ একাধিক বিষয় হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার পর চণ্ডিপাশা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশ্যে একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।