নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জসিম উদ্দিন (নাম) নামে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলাকারীরা তাঁকে বলে, ‘ডিসেম্বরে আপা আসতেছেন। উনি আসার আগেই তোকে মেরে ফেলব।’ বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত জসিম উদ্দিন ফতুল্লা থানা জামায়াতে ইসলামীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা বলে জানিয়েছেন দলটির নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির মাওলানা আবদুল জব্বার।
জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া একটি মামলার আসামি শাহাদাত সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁকে নজরে রাখছিলেন। শাহাদাত ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুলের অনুসারী বলে দাবি করেছেন জসিম। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাত বা তাঁর পক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জসিম উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কায়েমপুর এলাকায় পৌঁছালে শাহাদাত ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জসিমের ভাষ্য, শাহাদাত তাঁকে অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির আবদুল জব্বারকে সহায়তা করে তিনি তাঁদের গ্রেপ্তার করিয়েছেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শাহাদাত হঠাৎ বলে ওঠে, ডিসেম্বরে আপা আসতেছেন। উনি আসার আগেই তোকে মেরে ফেলব। এই বলেই তারা আমার ওপর চড়াও হয়।’ এরপর হামলাকারীরা সুইচব্লেড দিয়ে তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
হামলার একপর্যায়ে জসিমের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। তবে জসিমের অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার পথে কায়েমপুরের একই এলাকায় আবারও কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি রক্ষা পান।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ফতুল্লা থানা জামায়াতে ইসলামীর নেতা জসিম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও মতপার্থক্যের কারণে কাউকে হামলা বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে হামলার পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, সে বিষয়ে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আহমেদ নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। হামলায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং হামলার প্রকৃত কারণ কী—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে জসিম উদ্দিনের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাত, ফয়জুল কিংবা তাঁদের সহযোগীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
হামলার সময় ‘ডিসেম্বরে আপা আসতেছেন’ বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগটি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিক থেকেও আলোচনায় এসেছে। তবে ‘আপা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে জসিম উদ্দিন বা পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে ওই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এ ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট—রাজনৈতিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত বিরোধ যাই থাকুক, প্রকাশ্যে একজন রাজনৈতিক কর্মীর ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ গুরুতর। পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।