চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অচলাবস্থা কাটার অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা ১৩ দিন ধরে চলছে ‘শাটডাউন’। বন্ধ রয়েছে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনও অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর সমাধানের আশায় রয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
গতকাল রোববার শিক্ষার্থীদের কোনো কর্মসূচি না থাকলেও সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একই সঙ্গে তাঁদের কর্মবিরতিও অব্যাহত ছিল। দীর্ঘদিন একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, শনিবার সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা হয়েছে। তবে সরকারের কোন পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত জানাননি। তাঁদের আশা, আলোচনায় উত্থাপিত দাবিগুলো বিবেচনা করে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাবে সরকার।
চুয়েটের সহকারী অধ্যাপক সামিউন বাসির বলেন, শনিবার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনায় অংশ নেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। দাবিটির পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও বাস্তবতাও তাঁরা উপস্থাপন করেন। সামিউন বাসির বলেন, ‘সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত ধৈর্য, আন্তরিকতা ও পর্যাপ্ত সময় নিয়ে শুনেছেন এবং প্রতিনিধিদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। আমরা আশা করি, উপস্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চুয়েটের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’
তবে সংকটের অবসান না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কারণে একাডেমিক ক্যালেন্ডারেও প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সেমিস্টার, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সময়সূচিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের সার্বক্ষণিক পরামর্শ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সুসংহত সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে কাজ করে যাচ্ছি। অচিরেই আমরা সফল হব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দ্রুত সমাধান হওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি। শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি, তাঁদের সঙ্গে সরকারের আলোচনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে।
সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমকেই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে। ১৩ দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে আর ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য দ্রুত সমাধানের দাবি জোরালো হচ্ছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।