ভিনিসিয়ুস জুনিয়র লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও জয় পেতে সমস্যা হয়নি রিয়াল মাদ্রিদের। ইয়ান দিয়োমান্দের একমাত্র গোলে ভিয়ারিয়ালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে হোসে মরিনিয়োর দল। শনিবার রাতে (১০ অক্টোবর) নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পাওয়া এই জয়ে লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ছয় পয়েন্টের ব্যবধান ধরে রেখেছে রিয়াল। অন্যদিকে, গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম আট ম্যাচেই জয়ের রেকর্ড গড়েছে বার্সেলোনা। তবে ক্লাবটির ইতিহাসে লিগের মৌসুমে সেরা শুরুর রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। ২০১৩-১৪ মৌসুমে তাতা মার্তিনোর অধীনে টানা আট জয়ের রেকর্ড গড়েছিল বার্সা। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে ফ্লিকের সামনে।
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে রিয়ালের হয়ে গোল করেন আইভরিকোস্টের উইঙ্গার দিয়োমান্দে। ফেদেরিকো ভালভার্দের পাস থেকে বল পেয়ে দ্বিতীয়ার্ধে নিচু শটে দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে পাঠান তিনি। ক্লাবটির হয়ে এটিই তাঁর প্রথম গোল। ১৪ কোটি ইউরোতে রিয়ালে যোগ দেওয়া এই তরুণের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শেষ দিকে ভিনিসিয়ুসের একটি গোল বাতিল এবং তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জুড বেলিংহামের পাস থেকে বল পেয়ে জালে পাঠালেও ভিএআরের পর গোলটি বাতিল করেন রেফারি ইসিদ্রো দিয়াস দে মেরা। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের সূচনা হওয়া আক্রমণে ভিয়ারিয়ালের নাথান সালিবার চুল টেনেছেন ভিনিসিয়ুস। এ ঘটনায় তাঁকে লাল কার্ড দেখানো হয়।
দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পর বাকি সময় রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে রিয়াল। ভিয়ারিয়ালের কার্লোস রোমেরোর একটি প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। শেষ দিকে কিলিয়ান এমবাপ্পেও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু ভিয়ারিয়ালের গোলরক্ষক পিটার গুলাচিকে পরাস্ত করতে পারেননি। তবু এক গোলের লিড ধরে রেখে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে রিয়াল।
আন্তর্জাতিক বিরতির পর ফর্মে ফেরার লড়াইয়ে থাকা ভিনিসিয়ুসকে শুরুতে বেঞ্চে রেখেছিলেন মরিনিয়ো। ফ্রান্সের হয়ে খেলার সময় হাঁটুতে চোট পাওয়া এমবাপ্পে অবশ্য ফিট হয়ে শুরুর একাদশে ফিরেছিলেন। প্রথমার্ধে রিয়ালের আক্রমণে সবচেয়ে বেশি হুমকি তৈরি করেন ফরাসি তারকা। আলভারো কারেরাসের পাস থেকে তাঁর একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে গুলাচির সেভেও গোলবঞ্চিত হন তিনি। বিরতির সময় স্বাগতিকদের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট কিছু সমর্থকের দুয়োও শুনতে হয় দলটিকে।
এদিকে, বার্সেলোনা নিজেদের মাঠে গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে। অ্যান্থনি গর্ডন, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও জুলস কুন্দে গোল করেন। আট ম্যাচে আট জয়ে পূর্ণ ২৪ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে আছে কাতালান ক্লাবটি।
২০১৩-১৪ মৌসুমে তাতা মার্তিনোর অধীনে বার্সেলোনা প্রথম আট ম্যাচেই জিতেছিল। কিন্তু নবম ম্যাচে ওসাসুনার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করায় টানা জয়ের ধারা থেমে যায়। এবার ফ্লিকের দল সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আগামী সপ্তাহে রিয়াল বেতিসের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। ওই ম্যাচে জয় পেলে মৌসুমের শুরুতে টানা জয়ের নতুন ক্লাব-রেকর্ড গড়ার পথে এগোবে তারা।
তবে রেকর্ড নিয়ে আগেভাগে ভাবতে চান না ফ্লিক। তাঁর বক্তব্য, দলের মনোযোগ থাকা উচিত পরের ম্যাচে। ইতিহাস গড়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও খেলোয়াড়দের নিজেদের দায়িত্বে মনোযোগী রাখাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবারের অন্য ম্যাচে আলাভেসকে ২-১ গোলে হারিয়েছে অ্যাথলেতিকো মাদ্রিদ। ফলে বার্সেলোনার পেছনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তারা। রিয়াল মাদ্রিদ আপাতত তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড রিয়ালের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করলেও ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে জয় তাদের শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে।