৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ, সোবহানা-জ্যোতির ১৯৫ রানের জুটি; শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া
শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র ৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তুললেন সোবহানা মোস্তারি ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। দুজনের রেকর্ড গড়া ১৯৫ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২২০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ নারী দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নারী ওয়ানডেতে বাংলাদেশের এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। তবে সোবহানার ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি ও জ্যোতির দায়িত্বশীল ইনিংসের পরও জয় পায়নি বাংলাদেশ। জর্জিয়া ভলের সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটের জয় তুলে নেয় স্বাগতিকেরা।
রোববার ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে দল। প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্রুত আরও দুটি উইকেট হারিয়ে ৮ রানে ৩ উইকেটে পরিণত হয় বাংলাদেশের স্কোর। ফারজানা হক ও শারমিন আক্তার শূন্য রানে ফেরেন। এমন পরিস্থিতিতে চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন সোবহানা ও জ্যোতি।
শুরুতে সতর্কভাবে খেললেও উইকেটে থিতু হওয়ার পর ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়ান দুজন। সোবহানা ছিলেন আক্রমণাত্মক, অন্য প্রান্তে ইনিংস ধরে রাখেন অধিনায়ক জ্যোতি। তাঁদের দৃঢ়তায় পাল্টে যায় বাংলাদেশের ইনিংসের চিত্র। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের ১৯৫ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নারী ওয়ানডেতে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের নারী ওয়ানডে ইতিহাসেও এটি যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি।
এই জুটির সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়টি লিখেছেন সোবহানা। ১২৪ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে প্রথম বাংলাদেশি নারী ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো নারী ক্রিকেটারের এটিই প্রথম সেঞ্চুরি।
শেষ পর্যন্ত ১৩৪ বলে ১১৮ রান করে আউট হন সোবহানা। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৮টি চার, ছক্কা ছিল না একটিও। নারী ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। এর আগে ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে ফারজানা হকের করা ১০৭ রান ছিল সর্বোচ্চ। সোবহানার এই ইনিংস তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের রেকর্ডবইয়েও নতুন অধ্যায়।
অন্য প্রান্তে অধিনায়ক জ্যোতিও ছিলেন অবিচল। ১১৪ বলে ৭৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার। সোবহানা ফিরে যাওয়ার পর শেষ দিকে কয়েকটি উইকেট হারালেও নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২২০ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
তবে এই সংগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং শক্তির সামনে যথেষ্ট হয়নি। জবাবে মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। জর্জিয়া ভল অপরাজিত ১৩১ রান করে অস্ট্রেলিয়ার জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। ফলে সোবহানার ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি ও বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জুটি ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি।
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হারলেও সোবহানা-জ্যোতির এই জুটি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। অল্প রানে তিন উইকেট হারানোর পর এমন প্রত্যাবর্তন দলের ব্যাটিং সক্ষমতার নতুন দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর এবং রেকর্ড জুটি—সব মিলিয়ে সোবহানার ইনিংস বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।