আর্জেন্টিনার জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর চার দিন পরই ক্লাবের হয়ে মাঠে নেমে জোড়া গোল করেছেন লিওনেল মেসি। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ডি.সি. ইউনাইটেডকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। শনিবার রাতে (১০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির নু স্টেডিয়ামে এই জয়ের মধ্য দিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার ধারা ভেঙেছে দলটি। একই সঙ্গে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা।
মেসির পাশাপাশি জোড়া গোল করেছেন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ। ম্যাচের প্রথমার্ধেই তাঁর দুই গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি। বিরতির পর ৪৭তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ান মেসি। পরে ৬০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোলের দেখা পায় মায়ামি। বাঁ দিক থেকে সার্জিও রেগিলনের ক্রস জার্মান বেরতেরামের হেডে দিক পরিবর্তন করে পৌঁছায় সুয়ারেজের কাছে। কাছ থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড। ৩৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। বেরতেরামের হেড থেকে পাওয়া বলে পেনাল্টি এলাকার ভেতর থেকে লক্ষ্যভেদ করেন সুয়ারেজ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করেন মেসি। সুয়ারেজের নিখুঁত পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই বাঁ পায়ের শটে জালে পাঠান তিনি। এরপর ৬০তম মিনিটে দেখা যায় তাঁর চেনা ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। রদ্রিগো দে পলের পাস পেয়ে দ্রুতগতিতে বল নিয়ে এগিয়ে যান মেসি। ডি.সি. ইউনাইটেডের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে নিচের ডান কোণে বল পাঠান তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি এমএলএস মৌসুমে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩-এ। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে লিগে সতীর্থদের দিয়ে ১৩টি গোল করিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। ম্যাচে দে পলের করা গোলের পাসটি ছিল চলতি মৌসুমে তাঁর ১৩তম অ্যাসিস্ট।
ডি.সি. ইউনাইটেডের বিপক্ষে এই জয় মায়ামির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ২৮ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দলটি। শীর্ষ চার দলের মধ্যে থেকে প্লে-অফে জায়গা করে নেওয়া এবং ঘরের মাঠে ম্যাচ খেলার সুবিধা পাওয়ার লড়াইয়েও এই তিন পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ম্যাচে ৬১ দশমিক ২ শতাংশ বলের দখল রেখে ১৬টি শট নেয় মায়ামি। প্রতিপক্ষের জালে চারবার বল পাঠানোর পাশাপাশি নিজেদের গোলপোস্টও অক্ষত রাখে তারা।
মেসির জন্য ম্যাচটি ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলের আবেগঘন বিদায়ের পর ক্লাবের হয়ে নতুন অধ্যায়ে ফেরার উপলক্ষ। গত ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেন তিনি। সেই ম্যাচে নিজের ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোল করার পাশাপাশি নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজের গোলেও সহায়তা করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জাতীয় দলের হয়ে ২০৮ ম্যাচ খেলে শেষ করেন ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিদায়ের আবেগ কাটিয়ে চার দিন পরই মায়ামির হয়ে মাঠে নেমে জোড়া গোল করে নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছেন মেসি। ২০২৬ মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স মায়ামির শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে বড় ভূমিকা রাখছে। ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত। ফলে সমর্থকদের সামনে আরও কয়েক বছর তাঁর খেলা দেখার সুযোগ রয়েছে।