কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুনে কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের টয়লেট থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাতটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। রিসোর্টের ভেতর থেকে বিকট শব্দ শোনার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রিসোর্টের ইনচার্জ মো. সুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুন নেভানোর চেষ্টা চলাকালে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানান। এতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইনচার্জ সুমনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি এবং সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকর্মীরা এ কাজে অংশ নেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বেলা ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ এবং নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯)-এর নাম জানা গেছে। নাসরিন আক্তার মুক্তা ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাকি নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তকরণ ও স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত । জানা গেছে, রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। স্থাপনাটি অগ্নিকাণ্ডে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। কাঠের তৈরি বহুতল স্থাপনাটিতে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, জরুরি বহির্গমনপথ কতটা কার্যকর ছিল এবং আগুন লাগার পর পর্যটকেরা নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন কি না—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুনের সূত্রপাত, প্রাণহানির পরিস্থিতি এবং রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার আ.ন.ম. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ উদ্ধার কার্যক্রমে কাজ করছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইনানীর মতো জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা পর্যটন স্থাপনাগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা ও নিয়মিত তদারকির প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে এনেছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণ করা হবে।