প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ ও দলকে বিব্রত করতে চান না, দাবি প্রতিমন্ত্রীর
মন্ত্রিসভা থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। নিজের কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মকাণ্ড যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় এবং দল বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে জন্যই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে সরকারের দায়িত্ব ছাড়লেও মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। এর আগে নিজের বাড়ি থেকে প্রেসক্লাবে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে সরকারি স্টিকার নিজ হাতে খুলে ফেলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ‘আমার কারণে প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, দল যেন বিব্রত না হয়, সে কারণে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ালাম।’ তিনি বলেন, ‘আজকের দিন হতে আমি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।’
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইশরাক জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখতে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সে জন্যই তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
নিজের সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে ইশরাক বলেন, তিনি চাঁদাবাজি করতে যাননি, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়েছিলেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি ওই অভিযান সমন্বয় করতে গিয়েছিলেন। তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি লাইসেন্স করা এবং নিজের নিরাপত্তার জন্য ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ইশরাকের অভিযোগ, ওই ঘটনার ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর মূলধারার সংবাদমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের বয়ান তৈরি করা হয়েছে। গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেন তাঁকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হলো, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
সরকারি দায়িত্ব ছাড়লেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে ইশরাক বলেন, তিনি মাদক নির্মূলে কাজ করার অনুমতি চেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সে সুযোগ দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে না থাকলেও মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযান চলবে।
এর আগে সোমবার সকালে ইশরাক পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। গাড়ি থেকে সরকারি স্টিকার খোলার সময় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, বিশেষ কারণে তাঁকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই অব্যাহত থাকবে।
গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণে পলিথিনের ছাউনির ঘরে শনিবার মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা। ওই ঘটনার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে অস্ত্র হাতে কয়েকজনকে তাড়া করতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর তাঁর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
পরে তাঁর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলি চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ইশরাক ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে ইশরাক তখন এ ধরনের খবরকে ‘সর্বৈব মিথ্যা’ বলে দাবি করেছিলেন। এর পরদিনই তিনি নিজে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রায় নয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ইশরাক হোসেন।