দুইশ টাকার কৃষক কার্ড নয় জনগণ সার চায় উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষ সদস্য, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, কৃষক পরিবারের ভোট আদায়ের জন্য বিএনপি নির্বাচনের আগে কৃষক কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি কৃষকদের সার দিতে পারছে না!
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রুহিয়া উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের শুকানীপাড়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ডের নামে বিএনপি কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা ও তামাশা করছে। তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষককে মাসে দুইশত টাকা করে দেওয়া হবে! মাত্র দুইশত টাকা দিয়ে একজন কৃষক কী করবে প্রশ্ন রেখে বলেন, সেই দুইশত টাকার কৃষক কার্ড বিতরণেও দলীয়করণ চলছে। বিএনপির দলীয় লোকজন ব্যতিত সাধারণ কোনো কৃষক পরিবার কৃষক কার্ড পাচ্ছেনা।
তিনি নির্বাচিত হলে কৃষকদের কার্ড নয় ন্যায্য মূল্যে যথা সময়ে সার, বীজ ও কীটনাশক প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি পরিবার কোন না কোনভাবে কৃষি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই প্রতিটি পরিবারকে কৃষিতে সমৃদ্ধি করতে তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। বেকারত্ব নিরসন, খাদ্য সংকট দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি জন্য ঠাকুরগাঁওকে কৃষি অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, সৎ লোককে নির্বাচিত করলে জনগণ সুফল ভোগ করবে, অসৎ লোক নির্বাচিত হলে জনগণের শোষণের শিকার হবে। তিনি বলেন, “যারা সরকার গঠনের সাত মাস পর দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বানিয়েছে তাদেরকে আর ভোট দেওয়া যাবে না”।
ঠাকুরগাঁওয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ বিএনপি সরকার গঠনের পর খেয়ে ফেলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে যেই কয়েকটি রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে সেগুলো অনুমোদন ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। কিন্তু সংস্কার কাজ শুরু হয়ে শেষ করার আগেই কাজ বন্ধ হয়ে গেল! কারণ বরাদ্দের টাকা দলীয় নেতাদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে গেছে। আবারও যদি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি নির্বাচিত হয় তবে তাদের দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণের থাবা থেকে জনগণ রক্ষা পাবে না। জনগণের জন্য বরাদ্দের খোঁজও জনগণ জানতে পারবে না। আর জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। জনগণের জন্য রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ যা হবে তার হিসাব জনগণের কাছে প্রকাশ্যে এলইডির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনতে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিতে তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।