কার্তিকের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলের প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা। ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে ফসলের মাঠ, গ্রামীণ সড়ক ও বিস্তীর্ণ জনপদ। ঘাসের ডগা ও গাছের পাতায় জমছে শিশিরবিন্দু। হিমেল বাতাসে বাড়ছে শীতের অনুভূতি।
কুড়িগ্রামের রাজারহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে ভোরে এমন আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে। শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও লোকালয় কুয়াশায় ঢাকা ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে রোদের তীব্রতা বাড়ে। তবে বিকেল গড়ানোর পর আবারও অনুভূত হয় শীতের পরশ। সন্ধ্যার পর বাড়তে থাকে ঠান্ডা।
ভোরের কুয়াশায় ফসলের মাঠে তৈরি হচ্ছে সাদা আস্তরণ। ঘাসের ডগায় শিশির আর দূরের পথজুড়ে ধোঁয়াশা জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের বার্তা। ঠান্ডা উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে মাঠে নামছেন কৃষক ও দিনমজুরেরা। অন্যদিকে, সকালে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
রাজারহাট উপজেলার নাজিমানখান এলাকার কৃষক আবু বক্কর বলেন, এক সপ্তাহ ধরে সকালে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। তবে শনিবার সকালে কুয়াশা ও ঠান্ডার প্রকোপ ছিল বেশি। ভোর ছয়টার দিকে ধানখেতে কীটনাশক দিতে গিয়ে ঠান্ডায় শরীর ভিজে যায়। তাঁর ভাষায়, ‘প্রচুর ঠান্ডা লাগছে বাহে।’ তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে রাতেও কাঁথা-কম্বল গায়ে জড়াতে হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক পুলিন নারায়ণ চন্দ্রও সকালে ঠান্ডা ও কুয়াশার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কথা জানান।
বাছড়া এলাকার অটোরিকশাচালক মমিন বলেন, শীত পুরোপুরি আসার আগেই এত ঘন কুয়াশা নামবে, তা ভাবেননি। সকাল সাতটার দিকে কুয়াশা এতটাই ঘন থাকে যে হেডলাইট ছাড়া গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শনিবার সকাল ছয়টায় রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাত ও সকালের তাপমাত্রার পার্থক্য, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে ভোরে ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বায়ুমণ্ডলের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। তবে ভোরে কুয়াশার পর দিনের বেলায় রোদের তীব্রতা থাকায় উত্তরাঞ্চলে শীতের স্থায়ী প্রভাব পড়তে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।