কক্সবাজারে অতিবৃষ্টির আঘাতে বিপর্যস্ত চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ: চরম দুর্ভোগে উপকূলের চাষিরা

এম জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

​সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ ও অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষিরা। অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততার তারতম্যের কারণে একদিকে যেমন কাঁকড়ার গণমৃত্যু ঘটছে, অন্যদিকে ভেসে গেছে চাষের বিভিন্ন অবকাঠামো। এতে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ঘেরের পানির লবণাক্ততা হঠাৎ করে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে গেছে। হঠাৎ এই পরিবেশগত পরিবর্তনে অভ্যস্ত হতে না পেরে অনেক চিংড়ি -কাঁকড়া মারা গেছে। পাশাপাশি, পাহাড়ি ঢল ও প্রবল পানির স্রোতে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের জন্য তৈরি বাঁশের বানা, ঘেরের বেড়িবাঁধ ও অন্যান্য অবকাঠামো ভেঙে গেছে বা ভেসে গেছে। এতে অনেক চাষি তাদের উৎপাদিত কাঁকড়া হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছেন।

অস্বাভাবিক হারে চিংড়ি ও ​কাঁকড়ার মৃত্যু, এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ যাচাই বাছাই করে চিংড়িও কাঁকড়া চাষিদের স্বল্প সুদে লোন ও আর্থিক সহযোগিতা করে পূর্ণবাসন করা সময়ের দাবী। 

খুরুশকুলের কাঁকড়া চাষি আবদু সালাম বলেন, আকস্মিক মিষ্টি পানির অতিরিক্ত প্রবেশে ঘেরের ইকোসিস্টেম নষ্ট হওয়া।​কাঁকড়ার মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। আকস্মিক পচন ও রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। অতিবৃষ্টির কারণে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘেরের সুরক্ষা প্রাচীর ও বাঁশের বেড়া ভেসে যাওয়ায় কাঁকড়া অন্যত্র পালিয়ে গেছে। 

চৌফলদন্ডীর চিংড়ি চাষি সালামত উল্লাহ বলেন,​ এমন পরিস্থিতিতে উপকূলীয় অঞ্চলের  চাষিদের রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান দুর্যোগ মোকাবিলায় ঘেরের পানির গুণগত মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঘের ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পুনর্বাসনে জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করতে সরকার নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের ​সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কাঁকড়া চাষিদের তালিকা প্রস্তুত এবং তাদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানাই। যাতে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যায় কক্সবাজারের উপকূল অঞ্চলে মৎস্য খাতে সার্বিক ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। জেলার ১০টি উপজেলার ৬১টি ইউনিয়নে প্রায় ২,৪৪৫ হেক্টর এলাকজুড়ে থাকা ৪৫৩টি চিংড়ি প্রজেক্ট বা খামার এবং ৩,৯১৮টি পুকুর তলিয়ে গিয়ে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যায় ভেসে গেছে বা মারা গেছে প্রায় ১,০৯৭ মেট্রিক টন মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩ কোটি ৫৬ লাখ মাছের পোনা এবং ২ কোটি ২১ লাখ চিংড়ির পোনা। এছাড়া চিংড়ি ও মৎস্য খামারগুলোর অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো এবং ঘেরের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৭৬৮টি খামারে। বিশেষ করে চকরিয়া, পেকুয়া, মতামহুরি ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের চিংড়ি চাষিরা এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বিষয়:

কক্সবাজার
এলাকার খবর

সম্পর্কিত