দ্রুতই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অল্প সময়ের মধ্যেই পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি বলেন, ‘তিস্তা একটি বড় প্রকল্প। একটি প্রকল্প একদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। আমাদের কিছুদিন সময় দিন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করব।’

নদীভাঙন রোধে দলীয় বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নদীতে বাঁধ দিলে কে বিএনপি, কে জামায়াত, কে এনসিপি—নদীভাঙন তা দেখবে না। সবাই এর সুফল পাবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

কুড়িগ্রামের নদীভাঙন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, চিলমারী বন্দরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধে দুটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো মানুষের ঘরবাড়ি, হাট-বাজার, মসজিদ, মন্দির কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নদীতে বিলীন হয়ে না যায়, সেই জন্য সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কুড়িগ্রামের প্রায় ১০০টি ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। যেখানে আরও কাজের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হবে। ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে।

এর আগে সকালে চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি নৌপথে চিলমারীর কাঁচকোল বাঁধ, উলিপুর উপজেলার নামাজের চর, রৌমারী উপজেলার সুখেরবাতী এবং রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। 

এ সময় কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত