নকশা অনুমোদনের জটিলতায় রংপুর মহানগরীতে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ

রংপুর ব্যুরো
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

নকশা অনুমোদনের জটিলতায় রংপুর মহানগরীতে প্রায় এক বছর ধরে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। সিটি কর্পোরেশন নকশা (প্ল্যান) অনুমোদন না দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে নির্মাণ শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নগরবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, এক হাজারের বেশি নতুন ভবনের নকশা বা প্ল্যান অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতায় অনুমোদন পাচ্ছে না এসব ভবন। নকশা তৈরি, ব্যাংক ঋণের প্রক্রিয়া শেষ করেও অনেকে ভবন নির্মাণ শুরু করতে পারছেন না। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়তে থাকায় আর্থিক ক্ষতিও বাড়ছে। নির্মাণ শ্রমিকরা চরম কর্ম সংকটে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, সংকট কাটাতে একাধিক বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরপিডিএ) গঠনের গেজেট প্রকাশের পর ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষমতা আরপিডিএ কর্তৃপক্ষের হাতে চলে যায়। তবে আরপিডিএ পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এ কারণে ভবন নির্মাণ নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে আছে। আইনি জটিলতার কারণে সিটি কর্পোরেশনও নতুন করে কোনো নকশার অনুমোদন দিতে পারছে না।

নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, আরপিডিএ পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু না করা পর্যন্ত নকশা অনুমোদনের ক্ষমতা সিটি কর্পোরেশনের কাছে রাখার অনুরোধ জানানো হয়। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানান তৎকালীন প্রশাসক আশরাফুল ইসলাম। বর্তমান প্রশাসক এ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন এখনো কোনো সমাধান করতে পারেননি। মার্চে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মাহবুবা আইরিন মতামত চান। কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সম্প্রতি রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে নকশা যাচাই, কারিগরি মূল্যায়ন ও অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৌশলী এবং জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ কারণে তারা সেবা দিতে পারছেন না। মজিদুল হক নামে ব্যক্তি বলেন, আট মাস আগে প্রকৌশলী দিয়ে বাড়ির নকশা করিয়েছি। অনেক টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু অনুমোদন না পাওয়ায় নির্মাণকাজ শুরু করতে পারছি না। আমার মতো অনেকে বসে আছেন। নগরীর সেনপাড়ার নাজমা বেগম বাসভবন নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদনের জন্য সাত মাস ধরে ঘুরছেন। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু নকশা অনুমোদন না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারছেন না। এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরেও কোনো সমাধান মিলছে না।

রাজমিস্ত্রি মোমিনুল ইসলাম বলেন, তার অধীনে শতাধিক নির্মাণ শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু নগরীতে ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় তারা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার মতো আরও অনেকে রাজমিস্ত্রির অধীনে শত শত নির্মাণ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। নগরীসহ উপশহরের সাড়ে তিন হাজার নির্মাণ শ্রমিকের হাতে কোনো কাজ নেই। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সচিব রাকিব হাসান বলেন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের পর আইনি জটিলতার কারণে আমরা নতুন করে নকশা অনুমোদন দিতে পারছি না। বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠলে নিয়মিত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, আমার সময়ে কোনো প্রকার হয়রানি হবে না।
 

বিষয়:

রংপুর
এলাকার খবর

সম্পর্কিত