পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১৫০ টন কাঁচা তামাকের ১০টি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। চালানটির ঘোষিত আমদানি মূল্য এবং একই ধরনের পণ্যের পূর্ববর্তী শুল্কায়ন মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ চালানের মাধ্যমে উৎপাদন করা সম্ভব প্রায় ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা প্রিমিয়াম সিগারেট, যার সম্ভাব্য খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ৪৯৪ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড বন্ড সুবিধায় তামাকের চালানটি আমদানি করেছে। আমদানি করা তামাক দিয়ে আনুমানিক ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা প্রিমিয়াম সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব। এসব সিগারেটের সম্ভাব্য খুচরা বাজারমূল্য ৪৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দার প্রাথমিক পর্যালোচনায় চালানটির ঘোষিত আমদানি মূল্যে উল্লেখযোগ্য অসংগতি ধরা পড়ে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, একই এইচএস কোডের পণ্য প্রতি কেজি ৫ দশমিক ১০ মার্কিন ডলার দরে শুল্কায়ন করা হলেও আটক চালানে প্রতি কেজি কাঁচা তামাকের ঘোষিত মূল্য দেখানো হয়েছে ১ দশমিক ৪৫ ডলার। একই শ্রেণির পণ্যের পূর্ববর্তী শুল্কায়ন মূল্যের তুলনায় চালানটিতে ঘোষিত মূল্য অনেক কম। এ মূল্যপার্থক্যের কারণ এবং আমদানি ঘোষণার যথার্থতা যাচাই করা হলে শুল্ক-করসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, পূর্ববর্তী আমদানি মূল্য বিবেচনায় চালানটির আমদানি পর্যায়েই প্রায় ২১ কোটি ১২ লাখ টাকার রাজস্ব জড়িত রয়েছে। তবে এ অর্থ সম্ভাব্য রাজস্ব সংশ্লিষ্টতার হিসাব; তদন্ত ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত রাজস্বের পরিমাণ এবং কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল নির্দিষ্ট শর্তে রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যবহারের সুযোগ পায়। এ ক্ষেত্রে আমদানি করা কাঁচামালের ব্যবহার, উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে আমদানি, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে শুল্ক-কর ফাঁকির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মতে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা তামাকের প্রকৃত ব্যবহার এবং তা দিয়ে উৎপাদিত পণ্যের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা না হলে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণে চালানটির ঘোষিত মূল্য, শুল্কায়ন এবং বন্ড সুবিধার শর্ত পালনের বিষয়গুলো যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
চট্টগ্রাম বন্দরে আটক ১০টি কনটেইনারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে চালানটির ঘোষিত মূল্য নিয়ে অসংগতির বিষয়টি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেই উঠে এলেও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত অনিয়মের সিদ্ধান্ত বা দায় নির্ধারণের তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।