দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সফর
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নানা উদ্যোগের মধ্যে ঢাকায় এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং—আরএডব্লিউ বা ‘র’-এর সেক্রেটারি পরাগ জৈন। সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে ঢাকায় এসেছেন পরাগ জৈন। চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। তবে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের এই সফর নিয়ে এখনো বাংলাদেশ বা ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রোববার দুপুরে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সফরকালে তারা ঢাকার একটি হোটেলে অবস্থান করবেন।
প্রতিনিধি দলে যারা
পরাগ জৈনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি ও শৈবাল রায় চৌধুরী। পরাগ জৈন বর্তমানে ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের বিশেষ সুরক্ষা বাহিনী স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের (এসপিজি) স্পেশাল সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।
সফরের আগে চীনে পরাগ জৈন
ঢাকায় আসার আগে পরাগ জৈন চীন সফর করেছেন বলে জানা গেছে। ফলে তার ঢাকা সফরকে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে চীন সফরে তিনি কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন, কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিংবা সেই সফরের সঙ্গে ঢাকার বর্তমান সফরের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রেক্ষাপটে সফর
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব দুই দেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা যোগাযোগেও পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের কথাও সামনে এসেছে।
এমন একটি সময়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তবে সফরের আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা প্রকাশ না হওয়ায় এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই।
সাধারণত দুই দেশের নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের আওতায় আসতে পারে। তবে পরাগ জৈনের এবারের সফরে ঠিক কোন কোন বিষয় আলোচনায় থাকছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়া এবং এর আগে পরাগ জৈনের চীন সফরের তথ্য—দুটি ঘটনাই আঞ্চলিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের আগ্রহের কেন্দ্রে এসেছে।
তবে সফরের বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত এর উদ্দেশ্য ও আলোচনার বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো থেকে সতর্ক থাকাই যুক্তিসংগত।