শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীকে না সরালে পরের দাবি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ঘিরে দিল্লির রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদচ্যুত না করা হলে সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগের দাবি তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই চরম হুঁশিয়ারি দেন। এই আন্দোলনের জের ধরে এবার ভারতজুড়ে আরও বড় আকারের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে তরুণদের গঠিত এই সংগঠনটি। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে সমাবেশের বক্তব্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণের অনুরোধ জানান।

অভিজিৎ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ না করেন, তবে আন্দোলন কেবল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরবর্তী সময়ে তরুণ সমাজ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলবে। একজন ব্যর্থ মন্ত্রী কোনোভাবেই দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর জীবনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে এক বিক্ষোভকারী। নয়াদিল্লি, ভারত, ২৩ জুলাই

সমাবেশে সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করা হয়। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টিতে মনোযোগ দিতে এবং সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিতে প্রধানমন্ত্রীর ৩৪ দিন সময় লেগেছে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।

আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি বাধা ও ব্যারিকেড দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের আটকানোর জন্য প্রশাসন যে পরিমাণ তৎপরতা দেখিয়েছে, সেই উদ্যোগ যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে দেখানো হতো, তবে হয়তো অন্তত ২২ জন শিক্ষার্থীর জীবন বেঁচে যেত।

এরই মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত সরকার। তবে বৈঠকের স্থান নির্ধারণ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে চরম মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা জানান, আলোচনা হতে পারে কেবল কোনো সরকারি বাসভবন বা কার্যালয়ে।

তবে সিজেপি সরকারের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনের মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা জানান, তারা আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তর কিংবা কনস্টিটিউশন ক্লাবের মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। কিন্তু কোনো নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয় বা বাসভবনে যাবেন না।

দাবি পূরণ না হলে শুধু দিল্লি নয়, গোটা ভারতজুড়ে বিক্ষোভ-সমাবেশের পরিকল্পনা করছে সিজেপি।

 

 

 

দিল্লিতে সিজেপি’র ‘চলো সংসদ’ মার্চের সময় সংঘর্ষ এবং বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দলটির মতে, এই ঘটনাগুলো রাজধানীর বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।

বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও দিল্লি পুলিশের দাবি—মার্চ চলাকালীন বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠে। তারা পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে।

দেশব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে সংগঠনটি স্থানীয় আয়োজকদের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), প্রচারসামগ্রী এবং স্মারকলিপির একটি টেমপ্লেট প্রচার করেছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো জনসমক্ষে পাঠ, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় তথাকথিত পুলিশি বর্বরতার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি জানানো এবং জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জবাবদিহিতার দাবিতে গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক বিক্ষোভে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করার পর এই আন্দোলন আরও গতি লাভ করে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত